নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২০ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকার মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবার একটি পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য নাম মনোয়ারা হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড। দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালটি শুধু এই এলাকার নয়, বরং ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদেরও চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের জন্য হাসপাতালটির আলাদা সুনাম থাকলেও বর্তমানে এটি বহুমুখী আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সিদ্ধেশ্বরী রোডে অবস্থিত এই হাসপাতালটি আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, দক্ষ চিকিৎসক, প্রশিক্ষিত নার্স এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, “রোগীর সুস্থতাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য” এই দর্শন নিয়েই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।
আধুনিক অবকাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা:
মনোয়ারা হাসপাতালের অন্যতম বড় শক্তি এর আধুনিক অবকাঠামো। সুপরিকল্পিত ভবনে গড়ে ওঠা হাসপাতালটিতে রয়েছে উন্নতমানের চিকিৎসা সরঞ্জাম, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং জরুরি সেবার জন্য ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত ইউনিট। হাসপাতালটিতে অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি, এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম এবং ব্লাড ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা চালু রয়েছে। পাশাপাশি রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ডিজিটাল মেডিকেল রেকর্ড ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ব্যবস্থা।
গাইনি ও প্রসূতি বিভাগে বিশেষ সুনাম:
ঢাকার স্বাস্থ্যখাতে মনোয়ারা হাসপাতালের সবচেয়ে পরিচিতি গড়ে উঠেছে গাইনি ও প্রসূতি সেবার মাধ্যমে। নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে এখানে রয়েছে আধুনিক লেবার ও ডেলিভারি ইউনিট, নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (ঘওঈট) এবং দক্ষ প্রসূতি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী টিম।
অনেক রোগীর মতে, স্বাভাবিক প্রসব থেকে শুরু করে জটিল মাতৃত্বজনিত চিকিৎসায় হাসপাতালটির সেবার মান সন্তোষজনক। মা ও নবজাতকের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয় এখানে।
বহুমুখী বিশেষায়িত বিভাগ:
শুধু গাইনি নয়, মনোয়ারা হাসপাতালে বর্তমানে বিভিন্ন বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা নিয়মিত সেবা দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছেÑমেডিসিন, কার্ডিওলজি, নিউরোসার্জারি, ক্যানসার চিকিৎসা, শিশু বিভাগ, অর্থোপেডিকস, ইউরোলজি, চর্মরোগ, ইএনটি, ফিজিওথেরাপি, নেফ্রোলজি, এন্ডোক্রাইনোলজি। এছাড়া এন্ডোস্কোপি, কলোনোস্কোপি, ২৪ আওয়ার হোল্টার মনিটরিং, সিটি স্ক্যান, হল্টার মনিটরিং, ক্যানসার চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবাও হাসপাতালটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

২৪/৭ জরুরি সেবা:
যেকোনো হাসপাতালের মান নির্ধারণে জরুরি সেবার গুরুত্ব অপরিসীম। মনোয়ারা হাসপাতালে রয়েছে ২৪ ঘণ্টা চালু জরুরি বিভাগ, যেখানে প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্সরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসও ২৪ ঘণ্টা সচল থাকে, যা জরুরি রোগী পরিবহনে দ্রুত সহায়তা দেয়। গুরুতর রোগীদের জন্য আলাদা পর্যবেক্ষণ ইউনিটও রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য রোগীকে শুধু চিকিৎসা দেওয়া নয়, বরং একটি সহানুভূতিশীল ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।
রোগীদের জন্য পরিচ্ছন্ন কক্ষ, উন্নত কেবিন, নার্স কল সিস্টেম, অক্সিজেন সাপোর্ট, ২৪ ঘণ্টা ফার্মেসি এবং পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শের মতো সুবিধা রয়েছে।
মানসম্মত চিকিৎসা সবার জন্য:
মনোয়ারা হাসপাতালের অন্যতম অঙ্গীকার হলো সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের মানুষ যেন উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী না হন-এই লক্ষ্য সামনে রেখেই তারা কাজ করছেন। তাদের ভাষায়, “বাংলাদেশেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা দেওয়া সম্ভবÑআমরা সেটিই প্রমাণ করতে চাই।”
দীর্ঘ সময় ধরে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে মনোয়ারা হাসপাতালের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই করেনি, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাতেও এনেছে আধুনিকতা। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই প্রতিষ্ঠানটিকে রোগীদের কাছে একটি আস্থার জায়গায় পরিণত করেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করা, নতুন বিশেষায়িত বিভাগ চালু করা এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।
খরচটা একটু বেশি:
একজন রোগীর স্বজন বলেন, ‘চিকিৎসার পাশাপাশি এখানে রোগীদের প্রতি আচরণ ভালো। নার্স ও স্টাফরা আন্তরিকভাবে কাজ করেন, যা রোগীর মানসিক স্বস্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে খরচটা একটু বেশি।’ সদ্য মা-বাবা হওয়া এক দম্পতি বলেন, ‘আমরা পুরান ঢাকা থেকে এসেছি। রেগুলার এখানেই চেকআপ করাতাম এবং এখানেই সন্তান ডেলিভারি হয়েছে। হাসিমাখা সেই দম্পতি বললেন, ২-৩ দিনের জন্য যে খরচটা নেওয়া হয়েছে তা সত্যিই অনেক বেশি। তারপরও সার্ভিস ভাল বলে মেনে নিয়েছি।’
বাংলাদেশের অধিকাংশ হাসপাতালেরই খরচের বাধ্যবাধকতা সরকারের হাতে নেই। শুধুমাত্র কয়েকটি টেস্টের মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দিলেও বিভিন্ন চিকিৎসা সেবার খরচ সরকার নির্ধারিত করতে পারেনি এখনও। আর এতে করে নামী হাসপাতালগুলো তাদের মত করে চিকিৎসা ব্যয় নির্ধারণ করে থাকে। মনোয়ারা হাসপাতালের ব্যয়বহুল চিকিৎসার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোন মন্তব্য অবশ্য পাওয়া যায়নি। কয়েকদিন ধরে যোগাযোগ করা হলেও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা উর্ধ্বতর কোন কর্মকর্তা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
সিদ্ধেশ্বরীর ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝে মনোয়ারা হাসপাতাল এখন শুধু একটি হাসপাতালের নাম নয়; এটি অনেক মানুষের কাছে আস্থা, নির্ভরতা ও আশার প্রতীক। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, দক্ষ চিকিৎসক এবং রোগীকেন্দ্রিক সেবার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানটি রাজধানীর স্বাস্থ্যখাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
Posted ১২:০৪ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২০ মে ২০২৬
9 News Bd | s s