রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ডেঙ্গুর বিস্তার ৫৮ জেলায়, উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্যখাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ২১ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট

ডেঙ্গুর বিস্তার ৫৮ জেলায়, উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্যখাতে

দেশজুড়ে আবারও বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশেষ করে বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোতে সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৬৮০ জন রোগী। একই সময়ে ডেঙ্গুজনিত কারণে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম, তবে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এ বছর এখনো যেসব জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে শরীয়তপুর, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়। বাকি প্রায় সব জেলাতেই কমবেশি ডেঙ্গুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে এক লাখ ব্যাগ স্যালাইন মজুত রাখা হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে নির্দিষ্টসংখ্যক শয্যায় বিনা মূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু পরীক্ষার খরচেও বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, জানুয়ারি মাসে এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও ফেব্রুয়ারি ও মার্চে সংক্রমণ কমে আসে। তবে এপ্রিল থেকে আক্রান্তের সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করে। জুন মাসের প্রথম ১৯ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার রোগী, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত জুলাই ও আগস্ট মাসে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। বর্ষা শেষ হওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে। কার্যকর মশকনিধন কর্মসূচি ও জনসচেতনতা না বাড়লে চলতি বছরের শেষভাগ পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ১ হাজার ৬০১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে জনসংখ্যার তুলনায় বরিশাল বিভাগে সংক্রমণের হার বেশি। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ২৪৩ জন। চট্টগ্রামে ৯৫৬, খুলনায় ৪৯০, রাজশাহীতে ১৭০, ময়মনসিংহে ১৩৮ এবং সিলেটে ৫৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। রংপুর বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে কম।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। মশাবিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার বিস্তারের উপযোগী পরিবেশ, ভাইরাসের উপস্থিতি এবং মানুষের চলাচল—এই তিন উপাদানের সমন্বয়েই কোনো এলাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটে। তাই মশার বংশবিস্তার রোধ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

৫৫-৫৫/১, রমনা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

ফোন : +৮৮০১৯৭১৪৫৮২৫৭

E-mail: info@focusbangla24.com, focusbangla24online@gmail.com