নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
‘হেপাটাইটিস’ শব্দটি পরিচিত হলেও রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা এখনো আশঙ্কাজনকভাবে কম। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত অনেক মানুষ বছরের পর বছর কোনো লক্ষণ ছাড়াই স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। ফলে অজান্তেই তারা মারাত্মক লিভার রোগের ঝুঁকিতে চলে যান। চিকিৎসকদের ভাষায়, এ কারণেই হেপাটাইটিসকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’।
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর মিনার্ভা হাসপাতাল লিমিটেড এ বাস্তবতাকে সামনে এনে দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল সচেতনতামূলক র্যালি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অংশগ্রহণে প্যানেল আলোচনা এবং জনগণকে হেপাটাইটিস পরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করার কার্যক্রম।
হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবীরা ‘সচেতনতামূলক র্যালি’তে অংশ নিয়ে ব্যানার হাতে জনগণের উদ্দেশ্যে হেপাটাইটিস প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। ব্যানারে লেখা ছিল ‘হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জানেনই না যে তারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত।’ এই একটি তথ্যই প্রমাণ করে, সচেতনতার ঘাটতি কতটা গভীর।

আয়োজিত প্যানেল আলোচনায় দেশের খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তারা হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের সংক্রমণ, রোগ নির্ণয়, আধুনিক চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে উপস্থিত দর্শনার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন এবং রোগ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করার চেষ্টা করেন।
দেশের খ্যাতিমান লিভার ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ ডা. এম সাঈদুল হক বলেন, হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস দীর্ঘদিন শরীরে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। সময়মতো পরীক্ষা না করালে একসময় তা লিভার সিরোসিস কিংবা লিভার ক্যানসারের মতো জটিল রোগে রূপ নিতে পারে। অথচ বর্তমানে কার্যকর ওষুধ এবং নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। হেপাটাইটিস সি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য এবং হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণে রাখাও এখন অনেক সহজ হয়েছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়মিত হেপাটাইটিস বি ও সি পরীক্ষা করানো উচিত। পাশাপাশি নিরাপদ রক্ত গ্রহণ, জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার, নিরাপদ জীবনযাপন এবং হেপাটাইটিস বি-এর টিকা গ্রহণ সংক্রমণ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হিসেবে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূল করা। সেই লক্ষ্য অর্জনে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা, সহজলভ্য পরীক্ষা এবং সবার জন্য সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
মিনার্ভা হাসপাতালের এই উদ্যোগ সেই সচেতনতার পথেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, হেপাটাইটিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো সময়মতো পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা এবং সচেতনতা। নীরবে শরীরে বাসা বাঁধা এই ভাইরাসকে পরাজিত করতে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।
Posted ১:৫২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
9 News Bd | s s