| বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট
জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন, মেরামত, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের নামে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনায় কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাহিদুর রহিম জোয়ারদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের মহাপরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান।
তিনি বলেন, জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে (ওভার ইনভয়েসিং) বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগেও অনুসন্ধান চলমান।
এদিকে খুলনা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন ও সংস্কারের কাজে অনিয়ম এবং জাহিদুর রহিম জোয়ারদারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ৯ এপ্রিল অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের প্ল্যানারি হলে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের কাজ শুরু হয়। তবে পরবর্তী সময়ে সংসদ অধিবেশন চলাকালে একাধিকবার ওই ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে প্রবেশ করলে সাউন্ড সিস্টেমটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেটি মেরামত ও সংস্কারের কাজ করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গণপূর্ত বিভাগের জাতীয় সংসদ ভবন কার্যালয়ের তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম) মো. আস্রাফুল হকের তত্ত্বাবধানে কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের মাধ্যমে সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির সিইও জাহিদুর রহিম জোয়ারদার এ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে সিস্টেমটির মেরামত ও সংস্কারের কাজও তাঁর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরস্পর যোগসাজশে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। অভিযোগের সত্যতা, অর্থের প্রকৃত পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুসন্ধানের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।
Posted ১:২৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
9 News Bd | s s