ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ৩১ মে ২০২৬ | প্রিন্ট
ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে অ্যামিভান্টাম্যাব নামের একটি নতুন ইনজেকশন। আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেওয়া একাধিক রোগীর ক্ষেত্রে এই ওষুধ টিউমার সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
বিশ্বের ১১টি দেশে পরিচালিত পরীক্ষামূলক গবেষণায় এমন রোগীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাদের ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়েছিল অথবা পূর্বের চিকিৎসার পর পুনরায় ফিরে এসেছিল। প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া এসব রোগীর ওপর প্রয়োগ করা হয় নতুন এই ইনজেকশন।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ১০২ জন রোগীর মধ্যে ৪৩ জনের টিউমার উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট হয়েছে বা পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৫ জন রোগীর শরীরে টিউমারের আর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বাকি ২৮ জনের ক্ষেত্রে টিউমারের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফলাফলটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। কয়েকজন রোগীর ক্ষেত্রে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দৃশ্যমান উন্নতি দেখা গেছে। গবেষণার তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্যানসার সম্মেলন, American Society of Clinical Oncology-এর (এএসসিও) বার্ষিক সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
ওষুধ প্রস্তুতকারী Johnson & Johnson জানিয়েছে, অ্যামিভান্টাম্যাব বর্তমানে প্রায় ৬০টি পৃথক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফুসফুস, মস্তিষ্ক, পাকস্থলী ও মলদ্বারের ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও এর কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে।
গবেষকদের ভাষ্য, এই ইনজেকশন তিনটি ভিন্ন উপায়ে কাজ করে। এটি প্রথমে ইজিএফআর নামের একটি প্রোটিনকে বাধাগ্রস্ত করে, যা টিউমারের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। পাশাপাশি এমইটি নামের একটি জৈবিক পথও বন্ধ করে দেয়, যা ক্যানসার কোষকে চিকিৎসার প্রভাব এড়াতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করে।
পরীক্ষায় অংশ নেওয়া রোগীদের একজন ৫৬ বছর বয়সী Karl Walsh জানান, প্রচলিত কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপি তার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়নি। পরে তিনি যুক্তরাজ্যের The Royal Marsden NHS Foundation Trust-এ পরিচালিত ওরিগএএমআই-৪ ট্রায়ালে অংশ নেন। চিকিৎসা শুরুর পর তার ফোলা ও ব্যথা অনেকটাই কমে যায় এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা ও খাবার গ্রহণ করতে সক্ষম হন।
অ্যামিভান্টাম্যাব শিরায় নয়, ত্বকের নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। প্রতি তিন সপ্তাহে একবার এটি দেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার এবং খুব অল্পসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা বন্ধ করতে হয়েছে।
গবেষকদের মতে, প্রাথমিক ফলাফল অত্যন্ত ইতিবাচক হলেও ওষুধটির দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
Posted ১২:১৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
9 News Bd | s s