নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট
পাবনার হিমাইতপুরে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ১৩৯তম আবির্ভাব তিথি ও ভাগীরথী–পদ্মায় পুণ্যস্নান মহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মসভায় মানবকল্যাণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির আদর্শ ধারণ করে সাম্প্রদায়িকতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) হিমাইতপুরে আয়োজিত এ ধর্মসভায় দেশ-বিদেশ থেকে আসা হাজারো ভক্ত, অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজনকে ঘিরে সেখানে আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ধর্মসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র শুধু একজন আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ নন; মানবতা, নৈতিকতা, শিক্ষা, কর্ম ও সেবার ক্ষেত্রেও তিনি অনন্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাঁর জীবনদর্শন মানুষকে সত্য, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক ভালোবাসার পথে পরিচালিত করে এবং সহনশীল সমাজ গঠনে অনুপ্রেরণা দেয়।
তিনি বলেন, মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বাংলাদেশের শক্তি তার বহুত্ববাদী সংস্কৃতির মধ্যে নিহিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সংস্কৃতিকে ধারণ করেই শান্তিপূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন মন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের সময়ে অটোপাসের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করা হয়েছিল, সংস্কৃতির বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল এবং অপসংস্কৃতির বিস্তার ঘটেছিল। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে মাদকের দিকে ঠেলে দেওয়া এবং সাংবিধানিক, আর্থিক ও নির্বাচন ব্যবস্থায় ক্ষয় তৈরি করার অভিযোগও করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এসব অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জনগণের আকাঙ্ক্ষা থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সৃষ্টি হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের পতনের পথ তৈরি হয়েছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার প্রসঙ্গে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজার সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপ পাহারা দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের জনগণ ব্যাপকভাবে বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
ধর্মসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক) বিজন কান্তি সরকার এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, এমপিও উপস্থিত ছিলেন।
ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সৎসঙ্গের সভাপতি প্রাণ শংকর দাস অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
Posted ২:১৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
9 News Bd | s s