রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন

ফোকাসবাংলা২৪ ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন

সাহিত্যে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি ও লেখক অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে সুইডিশ অ্যাকাডেমি তাঁর নাম ঘোষণা করে। প্রাচীন ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সৃজনশীল সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ সৃষ্টির জন্য তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

অ্যান কারসনের জন্ম ১৯৫০ সালে কানাডার টরন্টোতে। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে তিনি কবিতা, গদ্য, অনুবাদ, সাহিত্য সমালোচনা ও মঞ্চনাট্যসহ নানা মাধ্যমে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ধ্রুপদি সাহিত্য পড়িয়েছেন।

কারসনের সাহিত্যকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য ও পুরাণকে আধুনিক ভাষা, চিন্তা ও মানবিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করা। তাঁর লেখায় কবিতা, গদ্য, সংলাপ ও অনুবাদের সৃজনশীল মিশ্রণ দেখা যায়। শব্দের ব্যুৎপত্তি ও অর্থের গভীরে অনুসন্ধান তাঁর লেখার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য থেকে তাঁর অনুবাদগুলোকেও স্বতন্ত্র সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে সাপফোর কবিতার অনুবাদসংকলন ‘ইফ নট, উইন্টার’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ইউরিপিডিসের ‘ইলেক্ট্রা’ ও ‘বাক্খাই’ এবং সোফোক্লিসের ‘অ্যান্টিগন’-এর অনুবাদও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যে রয়েছে।

১৯৯০-এর দশকে কারসনের বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য বই প্রকাশিত হয়। ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ‘দ্য গ্লাস এসে’ দীর্ঘ কবিতার নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরে। ১৯৯৮ সালের ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড: এ নভেল ইন ভার্স’ তাঁকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। বইটিতে প্রাচীন গ্রিক কবি স্টেসিকোরোসের অসম্পূর্ণ কবিতার একটি চরিত্রকে আধুনিক প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন তিনি। প্রাচীন কাহিনির সঙ্গে আধুনিক ভাষা ও মানবিক অভিজ্ঞতার এই মেলবন্ধনই কারসনের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যকে স্পষ্ট করে।

সাহিত্যে প্রচলিত ধরন ভেঙে নতুন রূপ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও কারসনের কাজের বড় বৈশিষ্ট্য। ২০১৬ সালের ‘ফ্লোট’ তার অন্যতম উদাহরণ। বইটি ২২টি ছোট পুস্তিকার সমন্বয়ে তৈরি, যেগুলো পাঠক ইচ্ছামতো বিভিন্ন ক্রমে পড়তে পারেন। ২০১৯ সালের ‘নর্মা জিন বেকার অব ট্রয়’-এ প্রাচীন গ্রিক পুরাণের হেলেনের কাহিনির সঙ্গে মেরিলিন মনরোর জীবনকে যুক্ত করা হয়েছে।

সুইডিশ অ্যাকাডেমি বলেছে, কারসনের প্রায় পুরো সাহিত্যকর্মেই ভাষাবিদের শব্দ-অনুসন্ধানের আকাঙ্ক্ষা এবং কবির নতুন অর্থ সৃষ্টির প্রয়াসের অনন্য সমন্বয় রয়েছে। সাহিত্যিক রীতির প্রচলিত সীমানা অতিক্রম করে তাঁর এই সৃজনশীল কাজ সমকালীন সাহিত্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

কারসন গত বছরের নোবেলজয়ী হাঙ্গেরির লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের উত্তরসূরি হলেন। ২০২৫ সালে সাহিত্য নোবেল পেয়েছিলেন ক্রাসনাহোরকাই।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:৪৪ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------