রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
বন্যার সঙ্গে চীনের নির্মাণকাজের যোগসূত্রের দাবি

তিব্বতে চীনের নির্মাণকাজেই কি নেপালে ভয়াবহ বন্যা?

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট

তিব্বতে চীনের নির্মাণকাজেই কি নেপালে ভয়াবহ বন্যা?

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালি সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট। মধ্য নেপালের রাসুওয়া জেলার ভোতেকোশি নদীতে আঘাত হানা এই বন্যায় এখনো প্রায় ৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক বলে জানা গেছে।

ভয়াবহ এই বন্যায় সড়ক, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কেও। নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারকাজে নেপাল সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার ৩০টির বেশি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

বন্যার সঙ্গে চীনের নির্মাণকাজের যোগসূত্রের দাবি

এই আকস্মিক বন্যার পেছনে তিব্বতে চীনের চলমান নির্মাণকাজের কোনো ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেপাল করেসপনডেন্সের একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তিব্বতের হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহসংলগ্ন এলাকায় বসতি ও বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কারণে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে তুষারধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়।

পোস্টটিতে বলা হয়েছে, নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি তিব্বতের গিয়েরং শহরসংলগ্ন এলাকায়ও এ ধরনের নির্মাণকাজ হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পাহাড় কেটে শহরটি গড়ে তোলা হয়েছে এবং এটি ত্রিশুলি নদীর প্রাকৃতিক গতিপথের কাছাকাছি অবস্থিত।

এ ছাড়া রাসুওয়া সীমান্তের কাছে গিয়েরং বন্দরও একটি নদীর সঙ্গমস্থলের কাছাকাছি নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে নেপালের দিকে পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও পোস্টটিতে উল্লেখ করা হয়।

পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির এসব অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে নেপাল সরকারের চীনের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত বলেও আহ্বান জানানো হয়েছে।

গিয়েরং বন্দরের কাছে চলাচলে বিধিনিষেধ

এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ২৬ আগস্ট সকালে সীমান্তবর্তী গিয়েরং বন্দরের কাছে কাদা ও পাথরধসের ঘটনা ঘটে। এরপর নিরাপত্তার কারণে ওই এলাকার সড়কগুলোতে সাময়িকভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

জরুরি ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া গিয়েরং শহর থেকে বন্দর পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

চীনের শিগাতসে শহরের গিয়েরং কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরো জানিয়েছে, কাদা ও পাথরধসের কারণে বন্দর এলাকার সড়কগুলো অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এতে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে।

তবে নেপালের ভয়াবহ বন্যার সঙ্গে তিব্বতে চীনের নির্মাণকাজের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে—এমন দাবির পক্ষে এখনো কোনো সরকারি তদন্ত, বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা এই অভিযোগকে আপাতত একটি দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বন্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:১৯ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

৫৫-৫৫/১, রমনা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

ফোন : +৮৮০১৯৭১৪৫৮২৫৭

E-mail: info@focusbangla24.com, focusbangla24online@gmail.com