রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ১৪ দফা সমঝোতা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তি সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোমবার ভোরে দুই দেশের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এরপর ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সম্ভাব্য চুক্তির ১৪টি মূল বিষয় প্রকাশ করে। তবে এসব শর্ত সম্পর্কে এখনো যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। পাশাপাশি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সমঝোতা অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। একই সময়ের মধ্যে ইরানের ব্যবস্থাপনায় পুনরায় খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। এছাড়া ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

চুক্তির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি। এ লক্ষ্যে অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিনিময়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে ইরান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি না করা এবং অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার অঙ্গীকার করবে।

মেহর নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় জব্দ হওয়া তহবিলের অন্তত অর্ধেক মুক্ত না করা, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা এবং নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতা কার্যকর হবে না। এছাড়া ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে চুক্তির বিষয়ে দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিকে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর আরোপিত অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক গতিতে চলবে।

পরবর্তী এক বার্তায় ট্রাম্প দাবি করেন, অতীতের মার্কিন প্রশাসনগুলো যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে তার প্রশাসন সফল হয়েছে। তার ভাষ্য, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ট্রাম্প আরও জানান, আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের পর এবং হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ সম্পন্ন হলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তেল পরিবহন পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে।

তবে এই সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির ডানপন্থী রাজনৈতিক মহল ও কয়েকটি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম চুক্তিটির সমালোচনা শুরু করেছে। তাদের মতে, এই সমঝোতা ইরানের জন্য কূটনৈতিক বিজয় এবং ইসরায়েলের জন্য একটি কৌশলগত পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, চুক্তি কার্যকর হলে লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক অভিযান সীমিত করতে হতে পারে ইসরায়েলকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

৫৫-৫৫/১, রমনা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

ফোন : +৮৮০১৯৭১৪৫৮২৫৭

E-mail: info@focusbangla24.com, focusbangla24online@gmail.com