| শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চলমান ইরান–মার্কিন সংঘাত ২০২৬ সালে এক জটিল ও অনিশ্চিত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ছয় সপ্তাহের তীব্র লড়াইয়ের পর বর্তমানে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ এবং যেকোনো সময় নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংঘাতের সূচনা হয় ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হন। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিভিন্ন ঘাঁটি ও স্থাপনায় আঘাত হানে।
বর্তমানে যুদ্ধবিরতি থাকলেও তা অত্যন্ত ভঙ্গুর। উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস, ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনও কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনা
বর্তমান সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ। বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান কার্যত এই পথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে এবং জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করছে। এর ফলে শত শত তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
ইরান এমনকি এই প্রণালী ব্যবহার করতে তেলবাহী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের কথাও বলেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন সংকট তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যদিও বলছে পথটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ নয়, বাস্তবে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক জাহাজ চলাচল এড়িয়ে যাচ্ছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও যুদ্ধবিরতি
সংঘাত থামাতে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক শক্তি মধ্যস্থতা করছে। পাকিস্তান, চীনসহ কয়েকটি দেশ একটি সমঝোতা প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, এর ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব
এই সংঘাত ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধ থেমে গেলেও এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব থেকে যাবে। তেলের দাম অস্থির হয়ে পড়েছে, সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে।
বিশেষ করে তেল আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি
ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে হামলা, ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সক্রিয়তা এবং বিভিন্ন দেশে প্রক্সি সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও বিস্তৃত করছে। যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে এটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরান–মার্কিন সংঘাত এখন একটি “স্থগিত কিন্তু অমীমাংসিত” অবস্থায় রয়েছে। সাময়িক শান্তি থাকলেও, গভীর রাজনৈতিক বিরোধ, সামরিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের সংঘাতের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত আবারও সহিংস হয়ে উঠতে পারে। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দেওয়া।
Posted ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
9 News Bd | s s