ফোকাসবাংলা২৪ ডেস্ক | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট
শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও বিচারক নাভি পিল্লাই। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকার জন্য এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী ওসলোর এক সংবাদ সম্মেলনে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এ পুরস্কার ঘোষণা করে। কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে পিল্লাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা বর্তমানে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও আক্রমণের শিকার হচ্ছে। আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের প্রতি বৈশ্বিক শ্রদ্ধার পরিবর্তে ক্ষমতার রাজনীতি প্রাধান্য পাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন ও বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় পিল্লাইয়ের অগ্রণী ভূমিকা, বিচারিক দৃঢ়তা, ব্যক্তিগত সততা ও সাহসিকতা তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য বিশেষভাবে যোগ্য করে তুলেছে।
১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন নাভি পিল্লাই। আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে বর্ণবৈষম্যের শিকার মানুষের পক্ষে আইনি লড়াই শুরু করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হিসেবে আইন পেশায় নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কৃতিত্ব তাঁর। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে আইন বিষয়ে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক নিযুক্ত হন পিল্লাই। তিনিই দেশটির প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী হাইকোর্ট বিচারক। ১৯৯৯ সালে রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে যোগ দেন এবং পরে এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ায় যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন তিনি। এ ছাড়া ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের অস্থায়ী বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন নাভি পিল্লাই। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন বিশ্বজুড়ে আলোচিত।
নাভি পিল্লাইয়ের এই অর্জন আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নতুন করে গুরুত্ব আরোপ করেছে।
Posted ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
9 News Bd | s s