রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ইন্দোনেশিয়ায় ফের শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৩৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট

ইন্দোনেশিয়ায় ফের শক্তিশালী ভূমিকম্প, নিহত ৩৮

ইন্দোনেশিয়ায় এক দিনের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভোরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির পূর্বাঞ্চলে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে দ্বিতীয় ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভোরের ভূমিকম্পটি আঘাত হানে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপে। এতে বেশ কয়েকটি ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়তে দেখা যায়। আতঙ্কিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি করতেও দেখা গেছে।

পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের সিক্কা শহরের বাসিন্দা ইয়োহান্না এমবু এএফপিকে বলেন, ভূমিকম্পে শহরের অনেক বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। কম্পনের সময় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তিনি বন্দর এলাকায় একটি ভবন নিজের চোখের সামনে ধসে পড়তে দেখেছেন।

প্রদেশটির গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কয়েকজন ঘুমন্ত অবস্থায় ভবন ধসে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছেন।

প্রাথমিক হিসাবে, ভূমিকম্পে ৫৪টি বাড়ি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একটি গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাংগারাই প্রদেশকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

উত্তর সুমাত্রায় আবার ভূমিকম্প:

ভোরের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের পেমাতাংসিয়ান্তার শহরের কাছে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।

ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৬৩ কিলোমিটার গভীরে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা কম্পন অনুভব করলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে প্রথমটির প্রভাবই সবচেয়ে ভয়াবহ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছে।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। দ্বীপপুঞ্জজুড়ে ভূমিকম্পপ্রবণতা বেশি হওয়ায় বড় ধরনের কম্পনে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও থাকে।

এদিকে নতুন করে উত্তর সুমাত্রায় ভূমিকম্প আঘাত হানায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আবারও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:০৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

৫৫-৫৫/১, রমনা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

ফোন : +৮৮০১৯৭১৪৫৮২৫৭

E-mail: info@focusbangla24.com, focusbangla24online@gmail.com