রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

বাংলাদেশ–ভারত ভিসা সেবা স্বাভাবিকের পথে, শিগগিরই পূর্ণমাত্রায় চালুর আশা

  |   শনিবার, ০২ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট

বাংলাদেশ–ভারত ভিসা সেবা স্বাভাবিকের পথে, শিগগিরই পূর্ণমাত্রায় চালুর আশা

কয়েক মাসের টানাপোড়েন কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক করার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে পূর্ণমাত্রায় ভিসা সেবা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রদান শুরু করেছে। অন্যদিকে ভারতও আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফরে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপিত হয়। বর্তমানে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনসহ কলকাতা, আগরতলা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ের কনস্যুলার বিভাগগুলো কার্যকর রয়েছে। ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লিকেও দ্রুত একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে কিছু ভিসা কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে তা পুনরায় চালু করা হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করে। এতে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রিও অংশ নেন।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা দৃশ্যমান হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পর দুই দেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জ্বালানি সংযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরও মনোযোগ দেবে। ইতোমধ্যে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দিলে ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করেছে।
ভারতের সরকারি সূত্রগুলো বলছে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ভিসা কার্যক্রম বিঘ্নিত হলেও তা কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে চিকিৎসা ও পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে আবেদনগুলো পৃথকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা সেবা আগের তুলনায় প্রায় ১৫-২০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও পারিবারিক ভিসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীর দায়িত্ব গ্রহণের পর ভিসা কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার পর দুই মাসে ভারতীয় নাগরিকদের ১৩ হাজারের বেশি ভিসা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের ভিসা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভারতের নাগরিকরা প্রধানত নয়াদিল্লি, মুম্বাই ও চেন্নাই থেকে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার জন্য আবেদন করেন। অন্যদিকে কলকাতা ও আগরতলায় পারিবারিক ভিসার আবেদন বেশি জমা পড়ে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে আগত বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অংশ ২০ শতাংশের বেশি। চিকিৎসা, ব্যবসা ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যেই বেশিরভাগ বাংলাদেশি ভারতে যান, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ তাদের প্রধান গন্তব্য।
সরকারি তথ্যে দেখা যায়, ২০২৩ সালে প্রায় ২১ লাখ ২০ হাজার বাংলাদেশি ভারতে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৫০ হাজারে। তবে ২০২৫ সালে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভিসা সীমাবদ্ধতার কারণে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৪ লাখ ৭০ হাজারে নেমে আসে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:২২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০২ মে ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

৫৫-৫৫/১, রমনা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

ফোন : +৮৮০১৯৭১৪৫৮২৫৭

E-mail: info@focusbangla24.com, focusbangla24online@gmail.com