আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট

প্রচলিত সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরানের নেতৃত্বকে উৎখাত করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে পারমাণবিক হামলার সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া ‘বোকামি’ হবে।
গত শুক্রবার পডকাস্টার টাকার কার্লসনের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কেন্ট এসব মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
কেন্ট বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর লক্ষ্য একাধিকবার পরিবর্তন করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ঘোষিত কোনো লক্ষ্যই পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ব্যবহার করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর মতে, ওয়াশিংটন যদি এখনো ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশটিকে পুরোপুরি আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায়, তাহলে সামনে দুটি প্রধান পথ রয়েছে—বড় পরিসরে স্থল অভিযান অথবা পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার। তবে ইরানের বিশাল ভূখণ্ড ও জনসংখ্যার কারণে সেখানে পূর্ণাঙ্গ স্থল অভিযান বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্ট আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে শেষ পর্যন্ত গণবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ সামনে চলে আসে। তাঁর ধারণা, ইরানের পার্বত্য এলাকায় মাটির গভীরে থাকা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র তাত্ত্বিকভাবে সীমিত পারমাণবিক হামলার কথা বিবেচনা করতে পারে।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, তেহরান ওয়াশিংটনের দাবি মেনে না নিলে দেশটির ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। পরবর্তী সময়েও তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন।
এদিকে, গত মাসের শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ দফার হামলা হঠাৎ স্থগিত করা হয়। এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পেন্টাগনের উচ্চনির্ভুল অস্ত্র ও প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তবে ট্রাম্পসহ মার্কিন প্রশাসনের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এসব প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছেন, পেন্টাগনের হাতে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে।
এর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে তিনি তেহরানের বিরুদ্ধে ‘চূর্ণবিচূর্ণ করে দেওয়ার মতো অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরুর ঘোষণা দেন। এ অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’।
তবে ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে কেন্টের বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত আশঙ্কা ও বিশ্লেষণ। এটি যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক নীতিগত সিদ্ধান্ত বা পারমাণবিক হামলার ঘোষণার সমতুল্য নয়।

Posted ১২:১০ পিএম | রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
9 News Bd | s s


