শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
মার্কিন সিনেটে বিরল ঐক্য

রাশিয়া-ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা, সিদ্ধান্তে আরও বলীয়ান হবেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট

রাশিয়া-ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা, সিদ্ধান্তে আরও বলীয়ান হবেন ট্রাম্প

রাশিয়া ও ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল বিপুল ভোটে পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। বিরল দ্বিদলীয় ঐকমত্যের মধ্য দিয়ে শুক্রবার বিলটি ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়। এর ফলে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে রুশ জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতাও দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।

‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামে বিলটি এখন প্রতিনিধি পরিষদে যাবে। সিনেটের এই সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিলটির পেছনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামেই এর নামকরণ করা হয়েছে।

বিলটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয় কমাতে দেশটির তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। প্রস্তাবিত আইনে রুশ তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলোর পণ্য আমদানিতে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হবে। চীন ও ভারতসহ রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা কয়েকটি দেশ এই ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারে। তবে শুল্ক আরোপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না; এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে।

এ ছাড়া রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, ধনকুবের, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত কথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা জোরদারের কথা রয়েছে। রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিতে সহায়তা করছে—এমন বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।

বিলটিতে ইরানের ওপর বিদ্যমান কিছু নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পাশাপাশি দেশটির জ্বালানি ও অস্ত্র খাতকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে একই আইনের আওতায় রাশিয়া ও ইরান—দুই দেশের ওপরই মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিনেটে বিলটির পক্ষে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলেরই বড় অংশের সমর্থন পাওয়া গেছে। ৮৬-১১ ভোটের ফলাফলকে ওয়াশিংটনে বিরল দ্বিদলীয় ঐকমত্যের নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও বিলের কিছু বিধান নিয়ে আপত্তিও রয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্টকে বড় ধরনের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন আইনপ্রণেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সিনেটের অনুমোদনের পর এখন মূল নজর প্রতিনিধি পরিষদের দিকে। সেখানে বিলটি পাস হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে কিছু সদস্য প্রেসিডেন্টের হাতে ব্যাপক শুল্কক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে সিনেটে বিপুল সমর্থন পাওয়ার পরও বিলটিকে আইনে পরিণত হতে আরও রাজনৈতিক বাধা পেরোতে হবে।

তবে সিনেটের এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থান দিয়েছে। বিশেষ করে রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা দেশগুলোর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শুল্কের হুমকি মস্কোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, আইনটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে রাশিয়ার তেল-গ্যাস আয়ের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি রুশ জ্বালানি কেনা দেশগুলোর জন্যও নতুন অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ানো এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নীতি আরও কঠোর করার ক্ষেত্রে এই বিল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। তবে এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন এবং পরে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৫:১০ এএম | শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------