আন্তর্জাতিক ডেস্ক | শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

লেবাননে চলমান সংঘাত বন্ধে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও ইরানের সহায়তায় দীর্ঘ আলোচনার পর দুই পক্ষ এই সমঝোতায় পৌঁছায়।
তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার আগ পর্যন্ত লেবাননে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েল। সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে চার ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন।
সংঘাতের উত্তেজনার মধ্যেই সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, দিনের শুরুতে উভয় পক্ষের মধ্যে লড়াই চললেও পরে তারা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টায় এবং ইরানের সহযোগিতায় এই সমঝোতা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে ছিল না ইরান। অন্যদিকে তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রও দায় এড়াতে পারে না এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আপাতত স্থগিত থাকলেও কূটনৈতিক প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পুনর্গঠন তহবিল এবং হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি ইস্যু নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় অনুমোদন দিয়েছেন। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি সংলাপের পথ খোলা থাকবে, যদিও তা ইরানের অবস্থান থেকে সরে আসার সমার্থক নয়।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও এর পরপরই লেবাননে নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এটিকে সাম্প্রতিক সংঘাতের অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

Posted ৭:৪৬ পিএম | শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s


