শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি থেকে সমঝোতায় ট্রাম্প, লাভবান কি ইরান?

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট

আত্মসমর্পণের হুঁশিয়ারি থেকে সমঝোতায় ট্রাম্প, লাভবান কি ইরান?

মাত্র ১৫ সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না।’ কিন্তু দীর্ঘ সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, তা সেই অবস্থানের সঙ্গে স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের পর হওয়া এই সমঝোতা ইরানের আত্মসমর্পণের দলিল নয়; বরং দেশটি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা অর্জন করেছে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির সুযোগ ফিরে পাওয়া। এর ফলে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা তেহরানের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা সম্পদের একটি অংশ ফেরত পাওয়ার পথও খুলতে পারে। একই সঙ্গে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে আরও বিস্তৃত আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করলেও ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করা। সেই লক্ষ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির একাংশ ইতোমধ্যে আপত্তি জানিয়েছে। ইসরায়েলও এ সমঝোতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এই যুদ্ধবিরতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং প্রাণহানি ঘটেছে হাজারো মানুষের। একই সঙ্গে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি আরও বড় সংকটের মুখে পড়তে পারত বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে ইরান বিশ্ববাজারে চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা দেখিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই কৌশলই শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে দেশটির অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।

অন্যদিকে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি অংশ চুক্তিটির সমালোচনা করে বলছেন, এতে ইরান অর্থনৈতিক সুবিধা পেলেও দেশটির পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।

তবে ট্রাম্পপন্থীদের একাংশের বিশ্বাস, দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যদিও সমালোচকদের আশঙ্কা, অতীতের মতো এবারও ইরান আলোচনা দীর্ঘায়িত করার কৌশল নিতে পারে।

বর্তমানে ইরানের নতুন নেতৃত্ব এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। ফলে যুদ্ধ দেশটির ক্ষমতার কাঠামো দুর্বল না করে উল্টো আরও শক্তিশালী করেছে কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে।

এখন সব নজর পরবর্তী আলোচনার দিকে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা গেলে ট্রাম্প এটিকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরতে পারবেন। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:২২ পিএম | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------