আন্তর্জাতিক ডেস্ক | শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক এবং চারজন নিরাপত্তা সদস্য রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
স্থানীয় আইনসভায় ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবিতে কয়েকটি অধিকারভিত্তিক সংগঠনের জোট বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারী জোটের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও সহিংসতার অভিযোগ এনে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করেছে এবং নেতাদের গ্রেপ্তারে পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।
তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও হাজারো মানুষ আঞ্চলিক রাজধানী মোজাফফরাবাদের দিকে পদযাত্রা শুরু করে। স্থানীয় সূত্র জানায়, রাওয়ালকোট শহরের উপকণ্ঠে ১০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী অবস্থান করছেন। প্রশাসন তাদের মোজাফফরাবাদের দিকে অগ্রসর হতে বাধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
পুঞ্চ জেলার প্রশাসক সরদার ওয়াহিদ খান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী টহল জোরদার করেছে এবং বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মোজাফফরাবাদ ও রাওয়ালকোটে নজরদারির জন্য হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে।
আসন্ন ২৭ জুলাইয়ের স্থানীয় আইনসভা নির্বাচনে কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ব্যবস্থার কারণে তারা আইনসভার প্রায় এক-চতুর্থাংশ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষ বলছে, ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক কারণে সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বজায় রাখা প্রয়োজন।
সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারী ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি) দাবি করছে, এ ব্যবস্থা স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্বকে দুর্বল করছে। তবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় গত ৫ জুন সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। প্রশাসনের অভিযোগ, সংগঠনটির কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
এদিকে পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সুপ্রিম কোর্ট এক পরামর্শমূলক রায়ে জানিয়েছে, শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলো সাংবিধানিক সুরক্ষা ভোগ করে। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক সমঝোতা বা জনচাপের মাধ্যমে এগুলো বাতিল করা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ব্রিটিশ ভারতের বিভাজনের পর থেকেই কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ চলে আসছে। উভয় দেশই পুরো কাশ্মীরের ওপর নিজেদের দাবি বজায় রেখেছে, যদিও বর্তমানে অঞ্চলটির বিভিন্ন অংশ পৃথকভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সূত্র: এএফপি

Posted ৪:৪৩ এএম | শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s


