ফোকাসবাংলা২৪ ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

এক সময় বিশ্বকাপের ট্রফি যেমন ছিল একটি, আয়োজক দেশও ছিল একটি, তেমনি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও হতো একটিই। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই ধারা। ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো যৌথ আয়োজক হয়েছিল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, যদিও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল কেবল সিউলেই। এবার সেই ইতিহাসও বদলে যাচ্ছে।
বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—যৌথভাবে আয়োজন করছে আসরটি। আর সেই সঙ্গে প্রথমবার তিনটি পৃথক শহরে অনুষ্ঠিত হবে তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক মেক্সিকোর প্রথম ম্যাচের আগে অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী আয়োজন। এরপর কানাডার টরন্টো এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসেও পৃথক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে স্বাগতিকদের প্রথম ম্যাচকে ঘিরে।
তিনটি আয়োজনের মূল লক্ষ্য একই—আয়োজক দেশগুলোর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা। মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে আদিবাসী শিল্প, লোকজ সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাডো’ শিল্পের মাধ্যমে দেশটির সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হবে।
বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই (লেটস গো)’ পরিবেশন করবেন বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা ও নাইজেরিয়ার গায়ক বার্না বয়। এছাড়া বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামে থাকা একাধিক আন্তর্জাতিক শিল্পীও অংশ নেবেন অনুষ্ঠানে।
মেক্সিকোর অনুষ্ঠানে আরও থাকবেন আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস ও মানার মতো জনপ্রিয় শিল্পীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার গায়ক-গীতিকার টাইলাও সেখানে পরিবেশনায় অংশ নেবেন।
বিশ্বকাপকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে মেক্সিকো সরকার। উদ্বোধনের দিন সরকারি ছুটি, স্কুল বন্ধ এবং সরকারি কর্মীদের ঘরে বসে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মেক্সিকো সিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান প্রায় ১৬ থেকে ১৭ মিনিট স্থায়ী হতে পারে।
অন্যদিকে কানাডার টরন্টোতে উদ্বোধনী আয়োজন শুরু হবে বিশেষ ক্ষণগণনার মাধ্যমে। দেশটির ইতিহাস ও গৌরবময় মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হবে অনুষ্ঠানে। সেখানে পরিবেশনায় অংশ নেবেন অ্যালানিস মরিসেট, আলেসিয়া কারা, মাইকেল বুবলে, নোরা ফাতেহি, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী সঞ্জয়সহ আরও কয়েকজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে থাকবে বৃহৎ পরিসরের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ও সৃজনশীল গল্পগাথা। মঞ্চ মাতাবেন কেটি পেরি, অ্যানিত্তা, লিসা, রেমা, ফিউচার ও টাইলারের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা।
তিনটি অনুষ্ঠানের প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রযোজক মার্কো বালিচ, যিনি অলিম্পিকের একাধিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের ধরন ও উপস্থাপনায় ভিন্নতা থাকলেও তিনটি আয়োজনের মূল বার্তা একটাই—ফুটবল এমন এক শক্তি, যা ভৌগোলিক সীমানা ও সাংস্কৃতিক ভেদাভেদ ভুলিয়ে মানুষকে একসূত্রে গাঁথতে পারে।

Posted ১১:২৩ এএম | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s


