শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ইরানি সম্পদ মুক্তি নাকি ক্ষতিপূরণে ব্যয়, নতুন সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট

ইরানি সম্পদ মুক্তি নাকি ক্ষতিপূরণে ব্যয়, নতুন সমীকরণে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তেহরানের জব্দ হওয়া ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই অর্থ মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে ইরান। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই অর্থ সরাসরি ছাড় দেওয়ার পরিবর্তে ভিন্ন একটি বিকল্প নিয়ে ভাবছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের বিভিন্ন সামরিক পদক্ষেপে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলো যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তার আর্থিক মূল্যায়ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির মেরামত ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান আলোচনায় অগ্রগতি আনতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আটকে রাখা অর্থ ছাড়ের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে হবে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তিন মাসের সংঘাতের পর স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান শর্ত হয়ে উঠেছে এই সম্পদ মুক্তির বিষয়টি।

তেহরান প্রথম ধাপে ১২ বিলিয়ন ডলার অবমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে বাকি অর্থ ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, এই পর্যায়ে অর্থ ছাড় করা হলে ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাপ প্রয়োগের উপায় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানও এ বিষয়ে কঠোর বলে জানা গেছে। তিনি এমন একটি সমঝোতা চান, যা অতীতের পারমাণবিক চুক্তির তুলনায় আরও শক্তিশালী এবং রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে। একই সঙ্গে ইরানের হাতে বড় অঙ্কের অর্থ তুলে দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে তার প্রশাসন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটির উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা তেহরানে অবস্থান করে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার পর উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর থেকেই কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তবে জব্দকৃত সম্পদ মুক্তির প্রশ্নে মতপার্থক্য এখনও আলোচনার অন্যতম বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি সম্পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক কূটনীতির ভবিষ্যতের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আলোচনার পরবর্তী অগ্রগতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:২১ পিএম | রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------