আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোমবার, ০১ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত যুদ্ধের কৌশল ও সামরিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে স্বল্প ব্যয়ের আত্মঘাতী ড্রোনের কার্যকারিতা বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় দীর্ঘপাল্লার নিজস্ব আত্মঘাতী ড্রোন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে যে তুলনামূলক কম খরচের ড্রোনও অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। একদিকে এসব ড্রোন উৎপাদনের খরচ কম, অন্যদিকে এগুলো প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যয় অনেক বেশি। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যয় ও কার্যকারিতার সমীকরণে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।
এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সৌদি আরব ‘স্কাইওয়াস্প’ নামে একটি নতুন আত্মঘাতী ড্রোন কর্মসূচি চালু করেছে। এটি একমুখী বা ‘ওয়ান-ওয়ে’ ড্রোন হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পর ফিরে আসার জন্য নয়। সৌদি প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘপাল্লার আক্রমণাত্মক সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যেই এ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি সৌদি সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি উন্নত যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিদেশি সামরিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল থাকলেও এখন দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনে জোর দিচ্ছে। নতুন ড্রোন কর্মসূচি সেই পরিবর্তনেরই অংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রযুক্তি সহযোগিতায় তৈরি হওয়া ‘স্কাইওয়াস্প’ ড্রোনের সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। দীর্ঘপাল্লার এ সক্ষমতা সৌদি আরবকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ড্রোনটিতে এমন নেভিগেশন ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, যা পূর্বনির্ধারিত নির্দেশনা অনুসারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সৌদি ও মার্কিন অংশীদারদের সমন্বয়ে একটি যৌথ উদ্যোগ গঠন করা হয়েছে। এর আওতায় রাজধানী রিয়াদের কাছে একটি বিশেষায়িত উৎপাদন কারখানাও নির্মাণ করা হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে দেশের প্রতিরক্ষা চাহিদার বড় অংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে পূরণ করা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় শিল্পভিত্তি শক্তিশালী করা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংকটের সময় সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকি কমিয়ে কৌশলগত স্বনির্ভরতা অর্জন করাও এর উদ্দেশ্য।
শুধু সৌদি আরব নয়, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশও এখন নিজস্ব ড্রোন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বেশ কয়েকটি দেশ স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন প্রযুক্তি ও সামরিক উদ্ভাবনকে কেন্দ্র করে নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।

Posted ২:৫২ পিএম | সোমবার, ০১ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s


