রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ইরানের জব্দ ১০০ বিলিয়ন ডলার: কোথায় আছে এবং ভবিষ্যৎ কী

  |   বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট

ইরানের জব্দ ১০০ বিলিয়ন ডলার: কোথায় আছে এবং ভবিষ্যৎ কী

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি চললেও এর আগেই বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইরানের বিদেশে আটকে থাকা বিপুল অর্থ—যা ‘ফ্রোজেন অ্যাসেট’ বা জব্দ সম্পদ হিসেবে পরিচিত।

দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে চাপে রয়েছে ইরানের অর্থনীতি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব এবং তেহরানে মার্কিন দূতাবাস জিম্মি সংকটের পর থেকে এই নিষেধাজ্ঞার সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়। এর ফলে তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত আয়ের বড় অংশসহ বিপুল অর্থ বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে যায় এবং এসব সম্পদের ব্যবহার সীমিত হয়ে পড়ে।

ইরানের জব্দ সম্পদের নির্দিষ্ট অঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও সরকারি হিসাব ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এটি দেশটির বার্ষিক জ্বালানি রপ্তানি আয়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি, যা বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটে ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আসন্ন আলোচনার আগে এই অর্থ ছাড়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে তেহরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জানিয়েছেন, আলোচনায় অগ্রসর হওয়ার আগে জব্দ সম্পদ মুক্ত করা জরুরি। অন্যদিকে কিছু প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র আংশিক অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে বলা হলেও পরে ওয়াশিংটন তা অস্বীকার করে জানায়, এসব অর্থ এখনো অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

‘ফ্রোজেন অ্যাসেট’ বলতে বোঝানো হয় কোনো দেশের অর্থ বা সম্পদকে অন্য দেশ বা আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সাময়িকভাবে আটকে রাখা। সাধারণত নিষেধাজ্ঞা, আদালতের নির্দেশ বা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে সমালোচকদের মতে, অনেক সময় এটি রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের জব্দ অর্থ বিশ্বের একাধিক দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে জাপানে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার, ইরাকে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার, চীনে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার এবং ভারতে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছেই সরাসরি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার রয়েছে। ইউরোপের মধ্যে লুক্সেমবার্গে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার এবং কাতারে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার আটকে রয়েছে, যা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে স্থানান্তরের পর পুনরায় স্থগিত করা হয়।

এই অর্থ ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল রপ্তানি কমেছে, বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে এবং শিল্প খাতে আধুনিকায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অর্থ মুক্ত করা গেলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি আসতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে, মুদ্রার স্থিতিশীলতা কিছুটা ফিরতে পারে এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। তেল, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ খাতেও নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে এই অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে শর্ত আরোপের সম্ভাবনাও রয়েছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল হলেও সব অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য হবে না। বর্তমান আলোচনায় ইরান অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের দাবি জানাচ্ছে, যা আস্থার পরিবেশ তৈরির জন্য প্রয়োজন বলে দেশটি মনে করে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই অর্থ ছাড়ে, তাহলে তা শুধু অর্থনৈতিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করবে। এতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত মিলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইরানের জব্দ সম্পদ এখন কেবল অর্থনৈতিক বিষয় নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দরকষাকষির হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আসন্ন আলোচনায় এই ইস্যুই দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ২:০১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------