| শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে আসা আর্টেমিস–২ অভিযানের নভোচারীরা শনিবার সকালে নিরাপদে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থার এই অভিযানে পৃথিবীতে ফেরার সময় তাপ ও গতির চরম পরীক্ষার মুখোমুখি হয় মহাকাশযানটি, তবে সব শঙ্কা কাটিয়ে সফলভাবে ফিরে এসেছে দলটি।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় মহাকাশযানটির গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৪০ হাজার কিলোমিটার। একই সঙ্গে তাপমাত্রা পৌঁছে যায় প্রায় ২ হাজার ৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। প্রচণ্ড ঘর্ষণে সৃষ্ট উত্তাপে যানটি লালচে আগুনের মতো প্লাজমায় ঢেকে যায়—যা মহাকাশযাত্রার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ধাপগুলোর একটি।
এই সময় হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে নভোচারীদের ক্যাপসুল। প্রায় ছয় মিনিটের এই অনিশ্চয়তার সময়জুড়ে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। সবকিছু নির্ভর করছিল তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থার কার্যকারিতার ওপর।
অবশেষে সেই উদ্বেগের অবসান ঘটে যখন অভিযানের কমান্ডারের কণ্ঠ আবার শোনা যায়। তিনি জানান, যোগাযোগ স্বাভাবিক আছে এবং তারা নিরাপদে পৃথিবীর পথে ফিরছেন। এরপরই নিয়ন্ত্রণকক্ষে স্বস্তি ফিরে আসে এবং উপস্থিত সবাই করতালিতে ফেটে পড়েন।
এই অভিযানে অংশ নেন চার নভোচারী—তিনজন মার্কিন ও একজন কানাডীয়। বৈচিত্র্যময় এই দলটি নতুন ইতিহাস গড়েছে। অভিযানের লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন এবং মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির পথ তৈরি করা।
পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর মানুষের চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে আসার এটি প্রথম অভিযান। এর আগে পরিচালিত মানববিহীন অভিযানে তাপ প্রতিরোধক ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা দেখা গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবারের অভিযানে পুনঃপ্রবেশের পথ কিছুটা পরিবর্তন করা হয়, যাতে ঝুঁকি কমানো যায়।
এই অভিযানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনও হয়েছে। একজন প্রথম অশ্বেতাঙ্গ হিসেবে, একজন প্রথম নারী হিসেবে এবং একজন প্রথম অমার্কিন হিসেবে চাঁদের চারপাশ ভ্রমণের ইতিহাস গড়েছেন।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই অভিযানের নভোচারীরা মানুষ হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণের নতুন রেকর্ড গড়েছেন, যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, চরম ঝুঁকি ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এই প্রত্যাবর্তন ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযান ও মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল।
Posted ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
9 News Bd | s s