নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েন শিথিলকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভাগীয় কার্যক্রম চলছিল। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করবে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে ‘গুরুদণ্ড’ আরোপের সুপারিশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, বিভিন্ন সময়ে দিন ও রাতের বিভিন্ন প্রহরে পরীমনির বাসভবনে তার অবস্থানের প্রমাণ মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের জুনে সাভারের বিরুলিয়ায় অবস্থিত একটি বোট ক্লাবকে কেন্দ্র করে আলোচিত ঘটনার পর। ওই ঘটনায় পরীমনি ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার পায় ডিবি পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমনিকে একাধিকবার ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। সেসময় ডিবির গুলশান বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে নিয়মিত যোগাযোগ, একসঙ্গে চলাফেরা এবং একে অপরের বাসভবনে অবস্থানের বিভিন্ন তথ্য তদন্তে উঠে আসে। মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি অভিযোগগুলো যাচাই করে।
সূত্রগুলো বলছে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার পেশাগত আচরণ, নিরপেক্ষতা এবং শৃঙ্খলার মানদণ্ড বিবেচনায় ঘটনাটি গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে। বিশেষ করে একটি আলোচিত মামলার তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠা পুলিশ বাহিনীর পেশাগত নীতিমালার পরিপন্থী বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও এ বিষয়ে গোলাম সাকলায়েনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত পাওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে বাধ্যতামূলক অবসরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে পুলিশ বাহিনীর পেশাগত নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দায়িত্ব পালনকালে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জনআস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয়।
Posted ১২:৫৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s