| সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রিমান্ডে নেওয়া দুই আসামি হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত শুনানি শেষে তাঁদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৫টার দিকে দুই আসামিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁদের এজলাসে নেওয়া হয়।
শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা রাজধানীর পল্লবী থানার একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha # 1’ ও ‘BBM Transparency’ নামের দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতামূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করছিলেন।
এ ছাড়া ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পলাতক কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, ‘কালআজকাল.কম’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করেও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছিল।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালে একটি গোলটেবিল বৈঠকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে আসামিরা ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন। পরে সংগঠনটির ১০১ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয়। এ ছাড়া তাঁদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো—মামলার অন্য আসামিদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করা, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা, আসামিদের পরিচালিত অন্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের সন্ধান পাওয়া এবং মামলার মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানার ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পরে তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর।
মামলার অভিযোগগুলো তদন্তাধীন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।

Posted ১:১৬ পিএম | সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
9 News Bd | s s


