রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

বিশ্বব্যাপী কর্মী ছাঁটাই করবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো: বৈশ্বিক প্রভাবের শঙ্কায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট

বিশ্বব্যাপী কর্মী ছাঁটাই করবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো: বৈশ্বিক প্রভাবের শঙ্কায় বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাপী ব্যয় সংকোচন ও ব্যবসা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে বহুজাতিক তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি)। একই সঙ্গে আরও সাড়ে ৩ হাজার পদ আউটসোর্সিংয়ের আওতায় নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর বৈশ্বিক প্রভাবে নেতিবাচক ধারায় রয়েছে বাংলাদেশও। বাংলাদেশের বাজারে লোকসান ও দুদকের অনুসন্ধানে চাপে রয়েছে কোম্পানিটি।

কয়েকদিন আগেই বিএটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে বছরে ৬০ কোটি পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা) ব্যয় সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে এই পুনর্গঠন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৪৭ হাজার কর্মী কাজ করছেন। নতুন পরিকল্পনার ফলে মোট কর্মীবাহিনীর প্রায় ২০ শতাংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত হতে পারেন বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

তবে বিশ্বব্যাপী কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। এমনিতেই গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশে কর্মী কমিয়ে দিয়েছে কোম্পানিটি। প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে ও কার্যক্রম স্থানান্তরের জন্য কয়েক দশকের মধ্যে এ বছরই লোকসান হয়েছে রেকর্ড পরিমান। এখন নতুন কর্মী ছাঁটাইয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বর্তমান কর্মীদের অনেকেই। যদিও ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো’র বাংলাদেশ উয়িংএর পক্ষ থেকে কেউ মন্তব্য করতে নারাজ কিন্তু অভ্যন্তরীন শঙ্কার চিত্র ফুটে উঠেছে অনেকেই কথাতেই। এ বিষয়ে জনসংযোগ বিভাগও কোন মন্তব্য জানাতে চায়নি।

বিশ্ববাজারে প্রচলিত সিগারেটের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিএটিসহ বড় তামাক কোম্পানিগুলো এখন ভেপ ও অন্যান্য ধূমপানবিকল্প পণ্যে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করে তোলাই পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে গ্লোবাল কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের ভিত্তিতে জানা যায় বিএটির প্রধান নির্বাহী টাদেউ মারোকো বলেন, ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি জানান, পুনর্গঠনের ফলে অনেক কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাদের প্রতি প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সম্মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসাকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে এ কর্মী ছাঁটাই কার্যক্রমের কোনো প্রভাব পড়বে না। দেশটিতে বিএটির কার্যক্রম পরিচালনা করে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রেনল্ডস আমেরিকান।

দু’বছর ধরে বাংলাদেশে কর্মী ছাটাই:
বিএটি বাংলাদেশ ২০২৪ সাল থেকে বাংলাদেশে কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। আউটসোর্সিংএর আওতায় থাকা হাজারের বেশি কর্মী ছাটাই হয়েছে বলে জানা যায়। মূলত ভেন্ডর পরিবর্তনের মাধ্যমে কর্মী ছাটাই হয়েছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন। তবে অভ্যন্তরীন সূত্র জানিয়েছে ধারাবাহিক লোকসান সামাল দিতে না পেরেই কর্মী ছাঁটাই করেছে বিএটি বাংলাদেশ। যেহেতু প্রতিষ্ঠানের কোর কর্মী না হয়ে আউটসোর্সিং কর্মী ছাটাই হয়েছে তাই বিষয়টি সেভাবে আলোচনায় এতদিন আসেনি এবং ছাঁটাইকৃত কর্মীদেরও এ বিষয়ে অভিযোগের কোন জায়গা ছিল না।

বৈশ্বিক প্রভাব বাংলাদেশে:
ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কর্মী ছাঁটাই এর প্রভাব বাংলাদেশে কতটুকু পড়বে প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) বিশ্বব্যাপী কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে সরাসরি বড় আকারের চাকরিচ্যুতির সম্ভাবনা সীমিত হলেও, প্রতিষ্ঠানের মিড-লেভেল ও ব্যাক-অফিস পরিচালনায় পুনর্বিন্যাসের প্রভাব পড়তে পারে। এই প্রভাবে দেশের উৎপাদনশীল তামাক ক্রয়ের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে, যা দেশে বিএটির সাথে পরোক্ষভাবে যুক্ত লক্ষাধিক তামাকচাষি ও স্থানীয় সাপ্লাই চেইনে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমাদের রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে পরোক্ষ কর ও ভ্যাট আহরণেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

বিএটিএ বাংলাদেশ যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাই তামাক চাষের সাথে জড়িত চাষিদের বিকল্প অর্থকরী ফসল উৎপাদনে সহায়তা করা এবং কর্মী ছাঁটাই ঝুঁকি কমাতে বিদ্যমান কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য সফট স্কিলস ও আধুনকি প্রযুক্তিগত দক্ষতায় গড়ে তোলা প্রয়োজন। এছাড়াও, ঢাকা চেম্বার মনে করছে, এনবিআর কেও আমাদের রাজস্ব আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস তামাকজাত পণ্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্থ হবে কিনা সে বিষয়ে সঠিক পরিকল্পনা এখনই নেয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে রাজস্ব বিভাগের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, বিএটি যে আর্থিক চাপে আছে তা ওদের ট্যাক্স ফাইল দেখেই বুঝা যায়। তবে এখনও বর্তমান অর্থ বছরের রিপোর্ট আসেনি, সুতরাং এখনই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

বিএটি বাংলাদেশ অফিসের জনসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগযোগ করলে তিনি বলেন, বৈশ্বিক বিষয়ে আমাদের মন্তব্য করার এখতিয়ার নেই।

দুদকের অনুসন্ধান:
দুই মাস আগে বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) বিরুদ্ধে গত ৫৫ বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা) জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে জয়েন্ট-স্টক কোম্পানিসহ বিভিন্ন দপ্তরে নথিপত্র চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানির পরিত্যক্ত সম্পদ আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের মালিকানায় যাওয়ার কথা থাকলেও, একটি প্রভাবশালী চক্র জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেগুলো ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর নিয়ন্ত্রণে যেতে সহায়তা করে। এ ঘটনায় রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদক সূত্র জানিয়েছে, অনুসন্ধান চলছে, অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিএটি’র জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয় দুদকের যেকোন অনুসন্ধানের বিষয়ে তারা তথ্য দিয়ে সার্বিক সহায়তা করবেন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১:৪৯ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

৫৫-৫৫/১, রমনা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

ফোন : +৮৮০১৯৭১৪৫৮২৫৭

E-mail: info@focusbangla24.com, focusbangla24online@gmail.com