নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তার দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহাবশেষ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন। এর আগে ২০ মে আদালতে আবেদনটি জমা দেওয়া হয়।
বুধবার (১০ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কর্মকর্তা জিয়াউল মোর্শেদ জানান, হত্যার অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটনের স্বার্থে দেহাবশেষ উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দেহাবশেষ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বাসভবনে মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ, যার প্রকৃত নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। মৃত্যুর পর তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এবং মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান।
আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যুর মামলার পাশাপাশি হত্যার অভিযোগও তদন্ত করে সিআইডি। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর জমা দেওয়া প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত সেই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন।
তবে সিআইডির প্রতিবেদনের বিরোধিতা করে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে ঘটনাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরদিন ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, অভিনেতা ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন সালমান শাহর মা-বাবা ও ছোট ভাই নিউ ইস্কাটনের বাসায় তাকে দেখতে যান। সেখানে প্রথমে জানানো হয় তিনি ঘুমিয়ে আছেন। কিছু সময় পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের অসুস্থতার খবর দেন। দ্রুত বাসায় ফিরে পরিবারের সদস্যরা তাকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান।
এজাহার অনুযায়ী, সালমান শাহকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার গলায় দাগ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। পরে তাকে রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি আগেই মারা গেছেন।
সালমান শাহর বাবার মৃত্যুর পর তার বোন নিলুফার জামান চৌধুরীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকলে তা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
Posted ১:০৫ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s