নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও এর অতিরিক্ত কনটেইনার ইয়ার্ড ১৫ বছরের জন্য পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড। এ লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ সরকার ও প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি সই হয়েছে
চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এশা কাজিম নিজ নিজ পক্ষে সই করেন। চুক্তি সই অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনালের মালিকানা, জমি ও মূল অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড নির্ধারিত মেয়াদে টার্মিনাল পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের দায়িত্ব পালন করবে। এ ব্যবস্থার আওতায় উন্নত যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়িয়ে পণ্য ওঠানো-নামানোর দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
চুক্তির আওতায় প্রথম ১০ বছরে টার্মিনাল আধুনিকায়নে এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে ডিপি ওয়ার্ল্ডের। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি চুক্তির শুরুতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা পরিশোধ করবে। টার্মিনাল পরিচালনা থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ রাজস্বের অংশও পাবে। তবে বিনিয়োগ ও রাজস্ব ভাগাভাগির শর্ত অনুযায়ী অর্থপ্রাপ্তি নির্ধারিত হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। নিউমুরিং টার্মিনাল বন্দরটির গুরুত্বপূর্ণ কনটেইনার স্থাপনা। এ টার্মিনালে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু হলে পণ্য খালাসের সময় কমানো, যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো এবং সরবরাহব্যবস্থার দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
তবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বন্দর শ্রমিক ও বিভিন্ন মহলে আপত্তি রয়েছে। চুক্তি সইয়ের আগে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আন্দোলনও হয়েছে। ফলে টার্মিনালের পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বার্থ, চুক্তির শর্তের স্বচ্ছতা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সরকারের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে নিউমুরিং টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে গতি আসবে। তবে এ উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন, বিনিয়োগের কার্যকারিতা এবং বন্দরের সার্বিক পরিচালন ব্যবস্থার ওপর।

Posted ৬:১৯ এএম | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
9 News Bd | s s


