বিনোদন ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট
বলিউডের ‘কিং খান’ শাহরুখ খানের সকাল শুরু হয় কফি দিয়ে। তবে সাধারণ এক কাপ নয়, ঘুম থেকে উঠে বিছানা ছাড়ার আগেই তিন কাপ কফি পান করেন তিনি। অভিনেতার ভাষ্য, সকালের এই কফি শেষ না করা পর্যন্ত কারও সঙ্গে কথা বলতেও ইচ্ছা করে না তাঁর।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আয়োজিত ‘আস্ক মি এনিথিং’ পর্বে এক ভক্ত শাহরুখকে জানতে চান, বাস্তব জীবনে তিনি এমন কী করেন, যা সত্যিকার অর্থেই ‘কিং-লাইক’। মজার ছলে উত্তর দিতে গিয়ে নিজের সকালের এই অভ্যাসের কথা জানান তিনি।
শাহরুখ বলেন, সকালে বিছানায় বসে তিন কাপ কফি পান না করা পর্যন্ত কেউ যেন তাঁর সঙ্গে কথা না বলেন। এমনকি কফির কারণে শুটিং বা কাজে পৌঁছাতে দেরি হলেও এই রুটিনে পরিবর্তন আনেন না তিনি। অবশ্য সেটে দেরিতে পৌঁছালে বকুনি শুনতে হয় বলেও রসিকতা করেন অভিনেতা।
কফির প্রধান সক্রিয় উপাদান ক্যাফিন। এটি মস্তিষ্কে অ্যাডেনোসিনের কার্যক্রমে বাধা দেয়। অ্যাডেনোসিন শরীরে ঘুম ও ক্লান্তির অনুভূতি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। ফলে ক্যাফিন গ্রহণের পর সাময়িকভাবে ঘুমভাব কমে এবং সতেজতা বাড়তে পারে। এ কারণে সকালে কফি পান করলে অনেকেই মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়ার অনুভূতি পান।
তবে বেশি কফি পান সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। ক্যাফিনের প্রভাব ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। কারও অল্প পরিমাণ ক্যাফিনেও অস্থিরতা বা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে, আবার কেউ তুলনামূলক বেশি গ্রহণ করেও তেমন সমস্যা অনুভব করেন না।
অতিরিক্ত ক্যাফিন গ্রহণে উদ্বেগ, অস্থিরতা, বুক ধড়ফড়, পেটের সমস্যা এবং ঘুমের ব্যাঘাত হতে পারে। বিশেষ করে দিনের শেষ দিকে বেশি কফি পান করলে রাতে ঘুমে সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তাই শাহরুখ খান প্রতিদিন তিন কাপ কফি পান করেন বলেই একই পরিমাণ অন্য সবার জন্য উপকারী হবে—এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। বয়স, শারীরিক অবস্থা, ক্যাফিনের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং দিনে মোট কতটা ক্যাফিন গ্রহণ করা হচ্ছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
অর্থাৎ, শাহরুখের তিন কাপ কফির অভ্যাস তাঁর ব্যক্তিগত রুটিন। তারুণ্য ধরে রাখার কোনো নিশ্চিত সূত্র হিসেবে এটিকে দেখা ঠিক নয়। নিজের শরীরে কফির প্রভাব কেমন হচ্ছে, সেটিই পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
Posted ১২:০০ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
9 News Bd | s s