নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট
২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামী ১৪ মার্চ থেকে শুরু হবে। বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ এপ্রিল। প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হবে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তা অনুমোদন দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, ১৪ মার্চ পরীক্ষা শুরু হয়ে এপ্রিলেই শেষ হবে।
চূড়ান্ত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪ মার্চ বাংলা প্রথম পত্র, ১৬ মার্চ বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ১৮ মার্চ ইংরেজি প্রথম পত্র এবং ২১ মার্চ ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আবশ্যিক গণিতের পরীক্ষা হবে ২৫ মার্চ।
এরপর ৪ এপ্রিল রসায়ন, পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং ব্যবসায় উদ্যোগ; ৮ এপ্রিল হিসাববিজ্ঞান এবং ১৩ এপ্রিল জীববিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ের পরীক্ষা হবে। ১৫ এপ্রিল ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে।
তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ২২ এপ্রিলের মধ্যে সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে নম্বর অনলাইনে পাঠাতে হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে।
সংগীত বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত পরীক্ষার দিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে প্রয়োজনীয় বাদ্যযন্ত্র ও শনাক্তকারী শিক্ষকসহ কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বাদ্যযন্ত্র পরীক্ষার্থীকে নিজ খরচে আনতে হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় মূল উত্তরপত্রের পরিবর্তে পৃথক ব্যবহারিক খাতা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করে নির্ধারিত আসনে বসতে হবে। পরীক্ষা শুরুর পর কোনো পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে প্রচলিত বিধি অনুসরণ করা হবে।
পরীক্ষার বহুনির্বাচনী ও সৃজনশীল বা রচনামূলক অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। পরীক্ষার্থীদের তত্ত্বীয়, বহুনির্বাচনী এবং ব্যবহারিক—প্রতিটি অংশে পৃথকভাবে পাস করতে হবে।
পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে। প্রবেশপত্রে কোনো ভুল থাকলে পরীক্ষা শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তা সংশোধন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকছে। কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না। তবে পরীক্ষার্থীরা বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন।
পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সাত দিনের মধ্যে ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।
এর আগে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত ১৪ মে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বছরের শুরুতেই পরীক্ষা আয়োজনের কথা জানিয়েছিলেন। তবে জানুয়ারিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
পরে গত ২ জুন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অংশীজনদের মতামত বিবেচনা করে প্রয়োজনে ৭ জানুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামত এবং পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময় বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা মার্চে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে। সে হিসাবে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানুয়ারিতে পরীক্ষা হলে প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে না—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের বিষয়টিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে অনেক শিক্ষার্থী নতুন শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা করলেও নবম ও দশম শ্রেণিতে তারা ২০১০ সালে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেছে। এর মধ্যে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই পেতেও দেরি হয়েছিল। ফলে পাঠ্যক্রম শেষ করে পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বাড়তি সময়ের প্রয়োজন ছিল বলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা মত দেন।
মার্চে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে সেই প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সময়সূচি ধীরে ধীরে আগের ধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে। একসময় ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও সমমান এবং এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজন করা হতো। করোনাভাইরাস মহামারি এবং পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপঞ্জিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এর প্রভাব পড়ে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচির ওপরও।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা এপ্রিলে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুলাইয়ে শুরু হয়েছে। আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা মার্চে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে পরীক্ষা আয়োজনের সময়সূচি আগের ধারায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার ফলে এখন কেন্দ্র প্রস্তুতি, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ, প্রবেশপত্র বিতরণ এবং পরীক্ষার অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করার জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়াশোনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা দেশের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক পরীক্ষা। ফলে পরীক্ষা আয়োজনের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম, ধর্মীয় উৎসব ও জাতীয় পরিস্থিতি—সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া হয়। ২০২৭ সালের পরীক্ষা মার্চে শুরু করার সিদ্ধান্ত সেই বিবেচনারই প্রতিফলন।
Posted ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ | সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
9 News Bd | s s