নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট

রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। আটা, ভোজ্যতেল ও চিনির পাশাপাশি সবজি ও ডিমের দামও বাড়তি থাকায় চাপে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। আয় না বাড়লেও খাদ্যপণ্যের ব্যয় বাড়তে থাকায় সংসারের মাসিক বাজেট সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষকে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্যাকেটজাত ও খোলা—দুই ধরনের আটার দামই আগের তুলনায় বেড়েছে। একই সঙ্গে ভোজ্যতেলের বাজারেও বাড়তি দাম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সয়াবিন তেলের পাশাপাশি অন্যান্য রান্নার তেলের দামও ভোক্তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়। চিনির দামও বেশ কিছুদিন ধরে চড়া অবস্থায় রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, আমদানি ব্যয়, ডলার ও পরিবহন খরচসহ বিভিন্ন কারণে আমদানিনির্ভর পণ্যের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের খুচরা বাজারে তার প্রভাব দ্রুত দেখা যায় না। আবার দাম বাড়ার খবর এলেই খুচরা বাজারে তা দ্রুত কার্যকর হয়ে যায়।
সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। মৌসুমি সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সবজির দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। কয়েকটি সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০০ টাকার কাছাকাছি বা তারও বেশি। ফলে আগে যে পরিমাণ সবজি কিনতেন, এখন অনেক পরিবারকে তার চেয়ে কম পরিমাণে কিনতে হচ্ছে।
ডিমের বাজারেও একই চিত্র। প্রতি ডজন ডিম কিনতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ গুনতে হচ্ছে। ডিমকে তুলনামূলক সস্তা প্রাণিজ আমিষের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হলেও দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যতালিকায়ও এর প্রভাব পড়ছে।
ক্রেতারা বলছেন, একসঙ্গে কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। একজন ক্রেতা বলেন, বাজারে ঢুকলেই দেখা যাচ্ছে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বেড়েছে। চাল, ডাল, তেল, চিনি, সবজি ও ডিম কিনতেই বড় অঙ্কের টাকা চলে যাচ্ছে। ফলে অন্য প্রয়োজনীয় খরচ কমাতে হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, বাজারে অযৌক্তিক মজুত ও কারসাজি বন্ধ করা এবং নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা গেলে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। একই সঙ্গে আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে যাতে অস্বাভাবিক ব্যয় বা অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর। কারণ তাদের আয়ের বড় অংশই খাদ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ব্যয় হয়। তাই বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা শুধু ভোক্তার স্বস্তির জন্য নয়, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
নিত্যপণ্যের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে। তাই বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি দাম বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

Posted ১১:০৪ এএম | শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
9 News Bd | s s


