গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি | মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ডাম্প ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের বৌলতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকেরহাট থেকে গোপালগঞ্জগামী সোনালী পরিবহনের একটি লোকাল বাস বৌলতলী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ডাম্প ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। অন্যদিকে ট্রাকটি সড়কের ওপর উল্টে গিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সব নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহায়তায় বাস ও ট্রাকে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। আহতদের গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
বৌলতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শফিউল আলম জানান, দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর সড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পরে দুর্ঘটনাকবলিত যান সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে বাস বা ট্রাকের অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা কিংবা সড়কের পরিস্থিতি কোনোটি দায়ী কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে একই সড়কে ভারী যানবাহনের চলাচল ও যাত্রীবাহী বাসের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আঞ্চলিক মহাসড়কটিতে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। তবে এ দুর্ঘটনার সঙ্গে এসব কারণের সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গোপালগঞ্জের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সামনে এনেছে। যাত্রীবাহী বাস ও ভারী যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে অল্প সময়েই প্রাণহানির ঘটনা ঘটায় চালকদের সতর্কতা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি উঠেছে।

Posted ১১:০৪ এএম | মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
9 News Bd | s s


