শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
মোমবাতির আলোতে চলছে পড়াশোনা

লোডশেডিংয়ে অন্ধকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি   |   বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট

লোডশেডিংয়ে অন্ধকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় শিক্ষার্থীদের হাতে থাকার কথা বই-খাতা ও ল্যাপটপ। অথচ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) অনেক শিক্ষার্থীর হাতে এখন মোমবাতি। দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে ফ্যান বন্ধ, ঘর অন্ধকার—এর মধ্যেই সেমিস্টার ও চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে তাদের। কেউ মোমবাতির আলোয় বই পড়ছেন, কেউ মোবাইলের আলোয় দেখছেন নোট। তীব্র গরম আর বিদ্যুৎ সংকটে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে বিদ্যুতের এমন পরিস্থিতি চলছে। কোনো কোনো দিন ২৪ ঘণ্টায় কয়েক ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে শেখপাড়া, আনন্দনগর, শান্তিডাঙ্গা, শাহ আজিজ পকেট গেট, লালন পকেট গেট ও মেইন গেট এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি বলে জানিয়েছেন তারা।

চলমান সেমিস্টার ও চূড়ান্ত পরীক্ষার মধ্যে এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন আবাসিক হল ও মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা। রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে যেমন পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ফ্যান বন্ধ থাকায় তীব্র গরমে ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মোটর, ইন্টারনেট ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

সরেজমিনে সাদ্দাম হোসেন হলে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থী মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করছেন। কারও সামনে বই-খাতা, কেউ মোবাইলের আলোয় নোট পড়ছেন। অনেকেরই পরদিন পরীক্ষা থাকায় বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষা না করে এভাবেই প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আগামীকাল আমার সেমিস্টার পরীক্ষা। বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকভাবে পড়তে পারছি না। মোবাইলের আলোয় পিডিএফ পড়াও কঠিন। তাই বাধ্য হয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করছি। এ অবস্থায় ঠিকমতো পড়াশোনা বা ঘুম—কোনোটিই হচ্ছে না।’

শিক্ষার্থীরা বলছেন, পরীক্ষার সময়ে দীর্ঘ লোডশেডিং তাদের মানসিক চাপও বাড়িয়ে দিচ্ছে। পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করাও সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে গরমের মধ্যে মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করা আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার সময়ে আবাসিক হলগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও পর্যাপ্ত জেনারেটর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ছাত্রাবাস ও মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে। ফলে অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী সংগ্রহ, অ্যাসাইনমেন্ট, কুইজ ও অন্যান্য একাডেমিক কাজ সময়মতো শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় পানির মোটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক এলাকায় পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনও ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে নিজেদের ভোগান্তির কথা তুলে ধরছেন। তাদের অভিযোগ, নিয়মিত ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ের কারণে একদিকে যেমন পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে স্বাভাবিক জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষার্থীরা দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং পরীক্ষার সময় বিশেষ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:৫৩ পিএম | বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------