নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি এমনভাবে তুলে ধরতে হবে, যাতে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের উদ্যোগ ও অর্জনের প্রকৃত চিত্র প্রতিফলিত হয়। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে তথ্যভিত্তিক, নির্ভুল ও বাস্তবসম্মত অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। সভায় মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, নগর ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব যথাযথভাবে প্রতিবেদনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি বিশেষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারী ক্ষমতায়ন, স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নেওয়া কর্মসূচিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রকৃত সফলতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। এ জন্য মন্ত্রণালয় এবং অধীনস্থ সংস্থাগুলোর অর্জন, চলমান প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে নেওয়া উদ্যোগগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জনমুখী সেবা নিশ্চিত করে মানুষের আস্থা অর্জনই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি’ ধারণার কথা উল্লেখ করে বলেন, ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সব শহরে আধুনিক, সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. রওশন আরা বেগম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুল আউয়াল, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
Posted ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
9 News Bd | s s