রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

ঢাকা মেডিকেল দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট

ঢাকা মেডিকেল দেশের মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসার নাম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। শুধু চিকিৎসা নয়, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানসহ জাতীয় জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিকাশে অবদান রেখে প্রয়াত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ শুধু দক্ষ চিকিৎসকই গড়ে তোলেনি; এখান থেকে শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা ও মুক্তিযোদ্ধাও তৈরি হয়েছেন, যারা মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড ও করিডোরে প্রতিদিন মানুষের জীবনসংগ্রাম, আশা-নিরাশা এবং নতুন জীবনের গল্প রচিত হয়। একজন চিকিৎসকের স্টেথোস্কোপের এক প্রান্তে থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞান, আর অন্য প্রান্তে স্পন্দিত হয় একজন মানুষের জীবন। চিকিৎসক ও রোগীর সম্পর্কের ভিত্তি হলো বিশ্বাস ও মানবিকতা।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক আচরণও চিকিৎসাসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার ও পরামর্শ অনেক সময় ওষুধের মতোই কার্যকর হয়ে ওঠে। তিনি চিকিৎসকদের মানুষের বিপদের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।

হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদারে সরকার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে পাঁচ হাজার নতুন এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পেশাজীবীর শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। এ লক্ষ্যেই সরকার প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগ সম্পর্কে আগাম সচেতনতা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে অনেক রোগ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

তিনি জানান, সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাদের ৮০ শতাংশই নারী হবেন, যারা পরিবারভিত্তিক প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ জাতি গড়তে শুধু হাসপাতাল নির্মাণই যথেষ্ট নয়। পারিবারিক সচেতনতা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে শিক্ষাখাতের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বর্তমানে এটি জিডিপির ১ দশমিক ০২ শতাংশ হলেও আগামী পাঁচ বছরে তা ধাপে ধাপে ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, হার্টের ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেনেটর, পেরিফেরাল ভাসকুলার স্টেন্ট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন ফাইবার, চোখের লেন্স এবং ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কয়েকটি কাঁচামালের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারও করা হয়েছে।

উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের বিষয়েও সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। এ কারণে পর্যায়ক্রমে ৩১ ও ৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি সব হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, বরিশাল ও রাজশাহীতে নির্মিত ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে। এর ফলে রাজধানীর বাইরে বিশেষায়িত শিশুচিকিৎসা আরও সহজলভ্য হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মেডিকেল বর্জ্য অপসারণ ও হাসপাতাল পরিচ্ছন্ন রাখা নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এ বিষয়ে চিকিৎসক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------