শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

নদী ও নগর পরিবহন উন্নয়নে চীন-বাংলাদেশের যৌথ ভাবনা বিনিময়

  |   শনিবার, ০৯ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট

নদী ও নগর পরিবহন উন্নয়নে চীন-বাংলাদেশের যৌথ ভাবনা বিনিময়

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নদী ও নগর পরিবহন শাসন’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক, যেখানে বাংলাদেশ ও চীনের বিশেষজ্ঞরা টেকসই উন্নয়ন, নদী ব্যবস্থাপনা এবং নগর পরিবহন আধুনিকায়ন নিয়ে মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. মো. সেলিম রেজা। এতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং থোংচি বিশ্ববিদ্যালয়–এর বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়ে গবেষণালব্ধ বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জলবায়ু সহনশীলতার জন্য নদীগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তিস্তা নদীর দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে নদী শাসন ও নৌপথ ব্যবস্থাপনার বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন বুয়েটের পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের প্রধান ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. সাব্বির মোস্তফা খান।

অন্যদিকে বুয়েটের পানি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার এম. শাহজাহান মন্ডল নদী ব্যবস্থাপনায় চীনের সহযোগিতার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি যৌথ গবেষণা ও বিনিয়োগ, শিল্পবর্জ্য শোধনে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পানি সুশাসনে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এসআইআই এস-এর গবেষণা ফেলো ড. চু ইউনচিয়ে চীনের বৃহৎ নদী ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে প্রয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর অর্থনৈতিক গতি ধরে রাখতে উন্নত গণপরিবহন ব্যবস্থা অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে চীনের আধুনিক রেল ট্রানজিট ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার মো. শহীদ মামুন বলেন, ঢাকার যানজট শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, এটি মূলত সুশাসনের চ্যালেঞ্জ। টেকসই সমাধানের জন্য একটি ক্ষমতাসম্পন্ন সমন্বয়কারী সংস্থা, কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ এবং নিজস্ব প্রকৌশল মানদণ্ড গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

চীনের ‘সমৃদ্ধি চাইলে আগে রাস্তা গড়ো’ দর্শনের আলোকে বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন ড. হং শাওচি। তিনি বলেন, শাংহাই ও ঢাকা—দুই শহরই উচ্চ জনঘনত্বের হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকার পরিবহন সমস্যারও সমাধান সম্ভব।

তিস্তা নদীকে স্থিতিশীল ও কার্যকর সম্পদে রূপান্তরের মহাপরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন হান খুন। তিনি জানান, প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো চীনা জল ব্যবস্থাপনা দর্শন ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্প সফল হলে একই প্রযুক্তি যমুনা নদীতেও প্রয়োগ করা যেতে পারে।

সেমিনারের সমাপনী বক্তব্যে ড. মো. সেলিম রেজা বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের কৃষি ও নগরায়ন একে অপরের পরিপূরক। চীনের কারিগরি দক্ষতা এবং বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা কাজে লাগিয়ে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তথ্য ও ছবি- সিএমজি বাংলা

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৯:৫৪ এএম | শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------