নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ | প্রিন্ট

তুরস্কের আন্তালিয়ায় আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩১) সামনে রেখে “টেকসই ও দুর্যোগ সহনশীল নগর গড়ে তোলা” শীর্ষক দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক আয়োজন ৮ ও ৯ মে সম্পন্ন হয়েছে। এ আয়োজনের অংশ হিসেবে তুরস্কের হাতায় মিউজিয়াম হোটেলে বিভিন্ন দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রীরা অংশ নেন।
বাংলাদেশের পক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এতে অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধনী পর্বে তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় দুর্যোগ সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আয়োজনের ফাঁকে বাংলাদেশের পরিবেশমন্ত্রীর সঙ্গে তুরস্কের পরিবেশ ও নগরায়ণ বিষয়ক মন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তুরস্কের মন্ত্রী কপ-৩১ সম্মেলন এবং “হাতায় ঘোষণা” সামনে রেখে বাংলাদেশের মতামত ও পরামর্শ চান এবং বাংলাদেশকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও অংশীদার দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশের পরিবেশমন্ত্রী তুরস্কের আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বর্তমানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি তুরস্কে বসবাস করছে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই সামান্য হলেও দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন উজাড় এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে বাংলাদেশের পরিবেশ ও জনজীবন ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। যদিও দীর্ঘদিন ধরে দেশটি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় বৈশ্বিক আর্থিক সহায়তা এখনও যথেষ্ট নয়। এ কারণে বাংলাদেশ কপ-৩১ সম্মেলনে একটি বিশেষ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবে, যাতে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও জানান, কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ প্রতিনিধি বা ফোকাল পয়েন্ট নিয়োগ দেওয়া হবে, যারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অবস্থান ও প্রয়োজন তুলে ধরবেন। পাশাপাশি উন্নত দেশগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ন্যায্য অর্থায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
পরবর্তী প্যানেল আলোচনায় গাম্বিয়া ও সিরিয়ার মন্ত্রী, তুরস্কে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর এবং ইলব্যাংকের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন প্রতিনিধি অংশ নেন। আলোচনায় বাংলাদেশের পরিবেশমন্ত্রী জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তুলতে অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বৈশ্বিক দূষণে কম অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। তাই এসব দেশের জন্য দ্রুত ও কার্যকর জলবায়ু তহবিল নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তিনি বলেন, শুধু অর্থায়ন নয়, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়নও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যাতে দেশগুলো টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে।

Posted ১১:০৫ এএম | শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
9 News Bd | s s


