| বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকের জন্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভিডিও প্ল্যাটফর্ম TikTok জানিয়েছে, বাংলাদেশে কমিউনিটি নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৯২ হাজার ১২৯টি ভিডিও সরানো হয়েছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্য এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপসারিত কনটেন্টের মধ্যে ৯৯.৯ শতাংশ ভিডিও আগেই শনাক্ত করে মুছে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি ৯৮.৪ শতাংশ ভিডিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরানো সম্ভব হয়েছে। এতে বোঝা যায়, প্ল্যাটফর্মটির নজরদারি ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আগের তুলনায় আরও কার্যকর হয়েছে।
টিকটক জানিয়েছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর প্রযুক্তি উন্নত হওয়ায় দ্রুত আপত্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত করা যাচ্ছে। শুধু নতুন ভিডিও নয়, পুরোনো ভিডিওও খুঁজে বের করে অপসারণ করা হচ্ছে।
মন্তব্য নিয়ন্ত্রণেও নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে সরাসরি মন্তব্য মুছে ফেলার হার কমেছে। এই সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২১ কোটি ৮৭ লাখ মন্তব্য সরানো হলেও আগের তুলনায় এই সংখ্যা কমেছে।
এছাড়া ভুয়া লাইক ও অনুসারী শনাক্ত করে অপসারণের হারও বেড়েছে। প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিশ্বব্যাপী একই সময়ে মোট ১৭ কোটি ৫৩ লাখের বেশি ভিডিও অপসারণ করা হয়েছে, যা মোট আপলোড করা কনটেন্টের প্রায় শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ। এর বড় অংশ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। পরে যাচাই করে কিছু ভিডিও পুনরায় চালু করা হয়।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে কোটি কোটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অ্যাকাউন্ট ছিল ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের বলে সন্দেহ করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অপসারিত ভিডিওর বড় অংশই ছিল সংবেদনশীল বা প্রাপ্তবয়স্ক বিষয়বস্তু। এছাড়া নিরাপত্তা নীতিমালা লঙ্ঘন, ভুল তথ্য ছড়ানো এবং গোপনীয়তা সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙার কারণেও অনেক কনটেন্ট সরানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ রাখতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। তবে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Posted ২:২৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
9 News Bd | s s