নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট

তেলের দাম বৃদ্ধির পরও রাজধানীতে ভোগান্তি কমেনি সাধারণ ভোক্তাদের। বরং কোথাও কোথাও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ঢাকার সেগুনবাগিচায় মৎস্য ভবন সংলগ্ন একটি পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে তেল নিতে আসা গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। প্রখর গরম উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পেট্রোল পাম্পটির সামনে কয়েক শ’ মিটারজুড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে ব্যক্তিগত গাড়ি, রাইডশেয়ার মোটরসাইকেল এবং পরিবহন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন যানবাহন। কেউ কেউ মাথায় কাপড় বেঁধে, আবার কেউ ছাতা নিয়ে গরম থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। তবে তীব্র রোদ আর দীর্ঘ অপেক্ষা—দুই মিলিয়ে দুর্ভোগ যেন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
লাইনেই দাঁড়িয়ে থাকা শরিফ নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “সকাল থেকে লাইনে আছি। গরমে দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই একটু শসা আর গাজর কিনে খাচ্ছি, শরীরটা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করছি।” তার মতো অনেকেই পাশে থাকা ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের কাছ থেকে পানি, ফল কিংবা হালকা খাবার কিনে সময় কাটাচ্ছেন।

আরেক বাইকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু কতক্ষণ লাগবে বুঝতে পারছি না। কেউ ঠিকমতো কিছু বলতেও পারছে না।” তার মতে, এমন অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে।
একটি ব্যক্তিগত গাড়ির চালক জানান, তিনি ভোর ৬টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তেল পাননি। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ভাই, ভোর থেকে দাঁড়িয়ে আছি। এখন দুপুর হয়ে গেছে। শুনলাম পাম্পে দুপুর ১টার পর তেল দেওয়া শুরু করেছে। কখন পাবো, আদৌ পাবো কি না—কিছুই জানি না।”
পেট্রোল পাম্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে—এই আশঙ্কায় আগেভাগেই তেল মজুত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় চাপ বেড়ে গেছে পাম্পগুলোতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধি শুধু পরিবহন খাতেই নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ একদিকে যেমন মূল্যস্ফীতির চাপে পড়ছেন, অন্যদিকে জ্বালানি সংগ্রহেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে পাম্পে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও দীর্ঘ লাইনের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ধৈর্য হারিয়ে চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, তেলের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর না করলে এই ধরনের ভোগান্তি কমানো সম্ভব নয়। তারা দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
সার্বিকভাবে, তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব শুধু অর্থনীতির পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নেই—এর সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে নগরজীবনের দৈনন্দিন বাস্তবতায়। দীর্ঘ লাইন, অনিশ্চয়তা আর ভোগান্তির এই চিত্রই তার প্রমাণ।

Posted ২:০৩ পিএম | মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
9 News Bd | s s


