নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
নব্বইয়ের দশকের হিন্দি চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব কতটা গভীর ছিল—সেই পুরনো বিতর্ক আবারও সামনে এনেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা রামগোপাল ভার্মা। সম্প্রতি ক্রাইম লেখক হুসেন জাইদির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, সে সময় মুম্বাইয়ের অপরাধজগতের বড় নামগুলো, বিশেষ করে দাউদ ইব্রাহিমকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল এক ধরনের ভয় ও নিয়ন্ত্রণের নেটওয়ার্ক, যার প্রভাব সরাসরি পড়ত বলিউডে।
ভার্মার ভাষ্যমতে, সেই সময়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডের কার্যক্রম ছিল না এলোমেলো বা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা। বরং এটি ছিল পরিকল্পিত একটি প্রভাব বিস্তারের কৌশল। তাঁর দাবি, সিনেমা নির্মাণ, কাস্টিং সিদ্ধান্ত এবং অর্থায়নের ক্ষেত্রেও পরোক্ষ চাপ প্রয়োগ করা হতো, যেখানে ভয় দেখানো ছিল অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
তিনি বলেন, বড় তারকাদের টার্গেট করা হতো ইচ্ছাকৃতভাবে, যাতে পুরো ইন্ডাস্ট্রির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়। তাঁর ব্যাখ্যায়, প্রভাবশালী অভিনেতা ও প্রযোজকদের ভয় দেখানো মানে ছিল পুরো ব্যবস্থাকে বার্তা দেওয়া। এই প্রসঙ্গে তিনি রাকেশ রোশন, সালমান খান ও শাহরুখ খানের মতো জনপ্রিয় নামগুলোর কথা উল্লেখ করেন, যাদের কেন্দ্র করে সেই সময় নানা গুঞ্জন ও চাপের অভিযোগ শোনা যেত।
ভার্মা আরও দাবি করেন, আন্ডারওয়ার্ল্ডের লক্ষ্য ছিল শুধু অর্থনৈতিক লাভ নয়, বরং ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। তাঁর মতে, ভয়ভীতি সৃষ্টি করে একটি অলিখিত শাসনব্যবস্থা চালানোর চেষ্টা চলত, যেখানে অস্বীকৃতি মানেই ছিল ঝুঁকি।
তিনি একটি প্রচলিত ধারণার কথাও উল্লেখ করেন—কাউকে উদাহরণ হিসেবে শাস্তি দেওয়া হলে সেটি অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করত। এই কৌশলকে কেন্দ্র করেই পুরো ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।
সাক্ষাৎকারে রামগোপাল ভার্মা ২০০০ সালের জানুয়ারিতে ঘটে যাওয়া রাকেশ রোশনের ওপর হামলার ঘটনাকেও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই হামলার পেছনে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের চাপ ও নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি কাজ করেছিল। তিনি দাবি করেন, একটি সিনেমা প্রকল্পকে ঘিরে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হয়েছিল, যা প্রত্যাখ্যানের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ভার্মার বক্তব্যে আরও উঠে আসে প্রযোজক গুলশান কুমারের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ। তাঁর দাবি, সেই সময় ব্যবসায়িক সাফল্য ও প্রভাব বৃদ্ধির কারণে গুলশান কুমার আন্ডারওয়ার্ল্ডের নজরে আসেন। পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্বও এই ঘটনার পেছনে থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
তবে এই সমস্ত দাবি অতীতের বহু আলোচিত ঘটনার পুনঃবিশ্লেষণ হলেও, সরাসরি কোনো নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বরং দীর্ঘদিনের গুঞ্জন ও তদন্তের আলোচনাগুলোকেই নতুনভাবে সামনে এনেছেন পরিচালক।
রামগোপাল ভার্মার এই মন্তব্য আবারও বলিউডের সেই অন্ধকার অধ্যায়কে আলোচনায় এনেছে, যেখানে সিনেমার পর্দার আড়ালে অপরাধ জগতের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন আজও পুরোপুরি মিটে যায়নি।
Posted ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
9 News Bd | s s