| রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট
ভারতের কিংবদন্তী সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা থেকে অসুস্থ বোধ করছিলেন আশা ভোঁসলে। এক পর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রে এক সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আশা। তার বাবা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ছিলেন খ্যাতিমান শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী। আর তার বড় বোন ছিলেন ভারতীয় সঙ্গীতের আরেক কিংবদন্তী লতা মঙ্গেশকর। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছেন আশা ভোঁসলে। অল্প বয়সে গণপৎ রাও ভোঁসলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও সেই সংসার টেকেনি। পরে ১৯৮০ সালে বিখ্যাত সুরকার রাহুল দেব বর্মণ-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
দীর্ঘ আট দশকের সঙ্গীতজীবনে হিন্দি, বাংলা, মারাঠিসহ প্রায় ২০টি ভাষায় ১২ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, আধুনিক গান, গজল থেকে ক্যাবারে—প্রতিটি ধারাতেই তিনি রেখেছেন অনন্য ছাপ। তার গাওয়া অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে সমানভাবে জনপ্রিয়।
অভাব-অনটনের কারণে খুব অল্প বয়সেই গানের জগতে পা রাখতে হয় তাকে। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে মারাঠি চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার মাধ্যমে তার যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে টানা কয়েক দশক ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি।
সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মাননা দাদাসাহেব ফালকে অ্যাওয়ার্ড এবং দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ।
তার অসুস্থতার খবর প্রকাশের পরই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আশা ভোঁসলের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছিলেন।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে উপমহাদেশের সঙ্গীত জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হলো। তার কণ্ঠ, তার সুর, আর তার সৃষ্টি—প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।
Posted ১২:৫১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
9 News Bd | s s