নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে না রেখে বাংলাদেশের সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা)। একই সঙ্গে শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে স্বচ্ছ, সমান ও জবাবদিহিমূলক নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম সংগঠনের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি তুলে ধরেন। বর্তমানে বায়রার কোনো আনুষ্ঠানিক কমিটি না থাকায় তিনি সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব করে বক্তব্য দেন।
ফখরুল ইসলাম বলেন, বায়রা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ রাখার পক্ষে নয়। বরং দ্রুত এই বাজার পুনরায় চালুর পক্ষে তারা। তবে অতীতের মতো সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানোর ব্যবস্থা আর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে সমান সুযোগ দিতে হবে।
বায়রার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৬ সালে মাত্র ১০টি এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালু হয়েছিল। ২০১৮ সালে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালে ২৫টি এজেন্সির মাধ্যমে বাজারটি পুনরায় চালু করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে এ সংখ্যা ১০১টিতে উন্নীত হয়। কিন্তু অনিয়ম, উচ্চ অভিবাসন ব্যয় ও নানা অভিযোগের মধ্যে ২০২৪ সালে আবারও বাজারটি বন্ধ হয়ে যায়।
সংগঠনটির অভিযোগ, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা না নিয়ে আবারও সীমিতসংখ্যক এজেন্সিকে কেন্দ্র করে একটি নতুন সিন্ডিকেট তৈরির চেষ্টা চলছে। বায়রার দাবি, ৪২৩টি এজেন্সির একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২৬০টি এজেন্সি সাতটি এবং ১৬৩টি এজেন্সি ছয়টি মানদণ্ড পূরণ করেছে। তবে শর্ত শিথিল হওয়ার পরও প্রায় দুই হাজার এজেন্সিকে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
ফখরুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, মাত্র ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে নতুন সিন্ডিকেট গঠনের চেষ্টা চলছে। তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য ৫০ লাখ মালয়েশীয় রিঙ্গিত এবং প্রত্যেক শ্রমিকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার রিঙ্গিত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।
বায়রা বলেছে, মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে ২৫, ৫০ কিংবা ১০০টি এজেন্সি নির্ধারণ না করে সব বৈধ ও যোগ্য এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সমঝোতা স্মারকের সংশ্লিষ্ট ধারায় পরিবর্তন আনারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বায়রার প্রস্তাব, মালয়েশিয়া যদি সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে চায়, তাহলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’ চালু করা যেতে পারে। এতে এজেন্সি নির্বাচন ও শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
এ ছাড়া শ্রমিকদের জন্য একটি স্বচ্ছ তথ্যভান্ডার তৈরি, কিস্তিতে অভিবাসন ব্যয় পরিশোধের ব্যবস্থা এবং পুরো প্রক্রিয়ায় সরকারের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বায়রা। সংগঠনটির মতে, এতে বিদেশে যেতে শ্রমিকদের অতিরিক্ত খরচ কমবে এবং প্রতারণার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।
বায়রার সদস্যরা বলেন, আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি বাংলাদেশিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার যে লক্ষ্য রয়েছে, তা বাস্তবায়নে দেশের সব বৈধ, অভিজ্ঞ ও সক্ষম রিক্রুটিং এজেন্সিকে কাজে লাগাতে হবে। অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু পুরোনো সিন্ডিকেট নতুন রূপে ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। বায়রার প্রায় ২ হাজার ৬০০ সদস্যের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশকে ব্যবসার সুযোগ দিয়ে বাকিদের বঞ্চিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালুর বিষয়ে একমত হয়। দুই দেশই তখন চাহিদাভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ এবং ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগপ্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছিল।
বায়রার দাবি, এবার শ্রমবাজার চালুর ক্ষেত্রে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। শ্রমিক পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন শ্রমিকদের ব্যয় কমবে, অন্যদিকে তেমনি মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগও তৈরি হবে।

Posted ১:২৫ পিএম | বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
9 News Bd | s s


