নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচারের অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধানসহ মোট আটজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ।
আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, মো. শওকত আলী চৌধুরী সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিক এবং ব্যাংক খাতের আলোচিত দুই ব্যবসায়ী এস আলম ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। অভিযোগ অনুযায়ী, তার নামে থাকা ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যুক্তরাজ্য থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা প্রতিরোধে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
নোটিশে বলা হয়েছে, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে গড়ে তোলা সম্পদের তদন্তের সময় যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শওকত আলী চৌধুরীর নামে থাকা এই অর্থের তথ্য শনাক্ত করে। এরপর অর্থটি দুবাইয়ের মাশরেক ব্যাংক ও এমিরেটস এনবিডিতে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, সন্দেহজনক এই লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে যুক্তরাজ্য কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিএফআইইউকে জানায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে চার সপ্তাহের মধ্যে সম্পদ জব্দের আদেশ অথবা পারস্পরিক আইনি সহায়তার (এমএলএ) আবেদন পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়ায় অর্থ স্থানান্তর ঠেকানো সম্ভব হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তা দুবাইয়ে চলে যায়।
আইনজীবীর দাবি, এর ফলে পাচার হওয়া অর্থ জব্দ কিংবা দেশে ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। কেন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে ২০২৫-২৬ করবর্ষে ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ দেখিয়ে বিদেশে থাকা ওই সম্পদ বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে নোটিশদাতার ভাষ্য, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিদেশে পাচার করা সম্পদ কেবল কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করা যায় না। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুসারে এ ধরনের কর্মকাণ্ড একটি পৃথক ফৌজদারি অপরাধ।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন এবং ৩০ জুলাই বিএফআইইউ শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছিল। এছাড়া সংস্থাটির অনুসন্ধানে ২৮টি ব্যাংকের ১৮৭টি হিসাবে প্রায় ৮ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং একাধিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে বিদেশে সম্পদ গঠনের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়, শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ অতীতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এ অবস্থায় ২৫ মিলিয়ন ডলারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব গোয়েন্দা তথ্য ও নথি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) চলমান অনুসন্ধানে সরবরাহ করার দাবি জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে একটি তফসিলি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ যোগ্যতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। নোটিশদাতার মতে, এত গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
নোটিশে সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্তের অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে রিটসহ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মো. শওকত আলী চৌধুরীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
Posted ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
9 News Bd | s s