রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

খাল ও নদীপথের টেকসই উন্নয়ন ছাড়া অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্যের সম্প্রসারণ সম্ভব নয়: ডিসিসিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬   |   প্রিন্ট

খাল ও নদীপথের টেকসই উন্নয়ন ছাড়া অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্যের সম্প্রসারণ সম্ভব নয়: ডিসিসিআই

দেশের অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণ, পরিবহন ব্যয় কমানো এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে খাল ও নদীপথের পুনরুদ্ধার এবং সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ব্যবসায়ী, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, খাল-নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে না পারলে দেশের নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বৃত্তাকার নৌপথের পুনরুজ্জীবন এবং অভ্যন্তরীণ নৌবাণিজ্য সম্প্রসারণে খাল খনন কর্মসূচির ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের খালগুলো একসময় নগরজীবনের প্রাণ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের দখল ও দূষণের কারণে সেগুলোর অনেকগুলোই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, শুধু খাল খনন নয়, এগুলোর সংরক্ষণেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও চলমান রয়েছে। খাল ও নদী পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আসবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে।

শিল্পকারখানার বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে ক্ষুদ্র শিল্পে স্বল্প ব্যয়ে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১ হাজার ৪১৫টির বেশি নদীর মধ্যে দীর্ঘদিনের অবহেলা, দখল ও পলি জমার কারণে ৫৫ শতাংশেরও বেশি নদী ও খাল তাদের কার্যকারিতা হারিয়েছে। এর ফলে দেশের প্রায় ৭৭ শতাংশ পণ্য পরিবহন এখন সড়কপথনির্ভর, যা ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর।

তিনি বলেন, সড়কপথের তুলনায় নৌপথে পণ্য পরিবহনের ব্যয় ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ কম এবং এতে ৪ থেকে ৬ গুণ জ্বালানি সাশ্রয় হয়। ফলে নৌপরিবহন সম্প্রসারণ ব্যবসার ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাসকীন আহমেদ রাজধানীর চারপাশের চারটি নদীর ১১২ কিলোমিটার নৌপথকে সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনার আহ্বান জানান। তার মতে, এতে যানজট কমবে, নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের বিকাশ ঘটবে এবং নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে নদী দখলমুক্ত করা, নিয়মিত ড্রেজিং, খাল খনন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা, কার্যকর নৌ-লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং একক কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়—এমন নিচু কালভার্ট বা সেতু নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি খাল খননের সময় পানিপ্রবাহের স্বাভাবিক দিক বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। নদী ব্যবস্থাপনায় একাধিক সংস্থা থাকলেও কার্যকর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান জানান।

বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ হোসেন বলেন, নদী উন্নয়নে প্রকল্প থাকলেও বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়হীনতায় বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব ও কাজের পরিধি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সিনিয়র স্পেশালিস্ট মো. তানিম সারওয়ার বলেন, দখল ও পলি জমার কারণে নদীগুলো ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। নদীর সীমানা নির্ধারণ এবং পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে জিআইএসসহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

এছাড়া পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস, স্থাপত্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা নদী ও খাল পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে ডিসিসিআইর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মন, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
শুভ শাহরিয়ার
Contact

৫৫-৫৫/১, রমনা, ঢাকা, বাংলাদেশ।

ফোন : +৮৮০১৯৭১৪৫৮২৫৭

E-mail: info@focusbangla24.com, focusbangla24online@gmail.com