রবিবার ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>

দুইশর আগেই অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করল বাংলাদেশ

ফোকাসবাংলা২৪ ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট

দুইশর আগেই অস্ট্রেলিয়াকে অলআউট করল বাংলাদেশ

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে রীতিমতো ধস নামাল বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের তোপে দাঁড়াতেই পারেনি স্বাগতিকরা। হাসান একাই শিকার করেছেন ৬ উইকেট। বাংলাদেশের পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রথম ইনিংসে দুইশর আগেই গুটিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া।

ডারউইন টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেছেন স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ৫৫ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। এবাদত হোসেন শিকার করেছেন ৩ উইকেট, আর তাসকিন আহমেদ নিয়েছেন ২ উইকেট।

ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে নতুন বল হাতে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রাখেন তাসকিন ও হাসান। বিশেষ করে হাসানের বোলিং ছিল দুর্দান্ত। দুই দিকেই সুইং করানোর পাশাপাশি উইকেট থেকে বাড়তি বাউন্স আদায় করে নেন তিনি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ট্রাভিস হেডকে বিপাকে ফেলেছিলেন এই পেসার। তবে হেডের ব্যাটের কানায় লেগে ওঠা বল নিরাপদ জায়গায় পড়ায় সেবার বেঁচে যান অজি ওপেনার।

নিয়মিত ভালো লাইন ও লেংথে বোলিং করার পুরস্কার পেতে অবশ্য বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। প্রথম সাফল্য আসে ১২তম ওভারে। হাসানের অফ স্টাম্পের বাইরে করা বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে দেন উসমান খাজা। উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে সহজেই ধরা পড়ে বল। ২৩ রান করে খাজা ফিরলে ভাঙে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।

নিজের পরের ওভারেই আবার আঘাত হানেন হাসান। এবার তার শিকার ট্রাভিস হেড। ইনিংসের ১৪তম ওভারের চতুর্থ বলটি গুড লেংথ থেকে ভেতরে ঢুকছিল। ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বল সোজা স্টাম্পে আঘাত হানে। ২২ রান করে ফেরেন হেড। দ্রুত দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।

এরপর ১৭তম ওভারে বড় সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। এবাদত হোসেনের বলে স্লিপে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ। তৃতীয় স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা তানজিদ তামিম সেই ক্যাচ তালুবন্দী করতে পারেননি। সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ে বাংলাদেশ শিবির।

তবে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি এবাদতকে। নিজের পরের ওভারেই মার্নাস ল্যাবুশেনকে ফিরিয়ে দেন তিনি। অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে গুড লেংথে করা বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে আউটসাইড এজ করেন ল্যাবুশেন। দ্বিতীয় স্লিপে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত এবার কোনো ভুল করেননি। মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন ল্যাবুশেন।

তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিন। তাসকিন আহমেদের করা ২২তম ওভারের প্রথম বলেই ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। তবে গ্রিনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের পাল্টা ফাঁদ তৈরি করে বাংলাদেশ। ওভারের শেষ বলটি গুড লেংথে করেন তাসকিন। অন সাইডে খেলতে গিয়ে শর্ট মিডউইকেটে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দেন গ্রিন। ১৩ বলে ১৩ রান করে ফেরেন তিনি। লাঞ্চের আগে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৪ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া।

লাঞ্চের পর কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি। দ্রুত রানও তুলছিলেন দুজন। মনে হচ্ছিল, বড় জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়াকে বিপদ থেকে বের করে আনবেন তারা। কিন্তু সেই সম্ভাবনা নষ্ট করে দেন এবাদত।

৩৭তম ওভারের প্রথম বলটি অফ স্টাম্পের বাইরে পড়ে ভেতরে ঢুকছিল। পাঞ্চ করতে গিয়ে ব্যাটের ভেতরের কানায় বল লাগিয়ে ফেলেন ক্যারি। বল সোজা স্টাম্পে গিয়ে আঘাত হানে। ১৯ রান করে ক্যারি ফিরলে ভাঙে ৫৫ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি।

এরপর দ্রুতই অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডারে ধস নামায় বাংলাদেশ। ৩৯তম ওভারের তৃতীয় বলে বো ওয়েবস্টারকে সরাসরি বোল্ড করেন তাসকিন। ১০ বলে ১২ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্কও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দুজনের কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে চা-বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া।

চা-বিরতির পর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের বদলে আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করেন স্মিথ। আর তাতেই বিপদ ডেকে আনেন তিনি। হাসান মাহমুদের খাটো লেংথের বলে এগিয়ে এসে পুল করতে গিয়ে টপ এজ করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক। বল আকাশে উঠে গেলে সহজেই ক্যাচ নেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। ৭১ রান করে ফেরেন স্মিথ। এই উইকেট নিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান।

এরপর নাথান লায়নকেও ফিরিয়ে দেন হাসান। তাতেই ইনিংসে ৬ উইকেটের কীর্তি গড়েন এই বাংলাদেশি পেসার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ১৯৮ রানে।

ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে বাংলাদেশের পেসারদের এমন আগ্রাসী বোলিং অস্ট্রেলিয়াকে পুরো ইনিংসজুড়েই চাপে রেখেছে। নতুন বলে হাসানের সুইং, এবাদতের ধারাবাহিকতা এবং তাসকিনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের ওপর শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসে দুইশর আগেই গুটিয়ে গিয়ে বড় চাপেই পড়েছে অস্ট্রেলিয়া।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৬:২৫ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------