ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এমন কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে হবে, তা হয়তো ম্যাচ শুরুর আগে খুব কম মানুষই ধারণা করেছিলেন। তবে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কেপ ভার্দে দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়ে লিওনেল মেসিদের অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত চাপে রাখে। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় ম্যাচে ৩-২ গোলের জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ১৫ মিনিটে থিয়াগো আলমাদার পাস থেকে লিওনেল মেসি প্রথম বড় সুযোগ পেলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। তিন মিনিট পর ফ্রি-কিক থেকেও গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করতে পারেননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তবে ২৯ মিনিটে অপেক্ষার অবসান ঘটে। লিসান্দ্রো মার্টিনেজের দীর্ঘ পাস দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে এনে রক্ষণভাগ ভেদ করে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মেসি। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার সপ্তম গোল। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার সরাসরি গোল অবদান দাঁড়ায় ১২টি (৬ গোল ও ৬ অ্যাসিস্ট), যা ১৯৬৬ সালের পর সর্বোচ্চ। এছাড়া টানা অষ্টম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়েন তিনি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ২০।
গোলের পরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে আর্জেন্টিনা। এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শট অসাধারণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আলবিসেলেস্তেরা।
বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে কেপ ভার্দে। ৫৪ মিনিটে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ দারুণ এক সেভে দলকে রক্ষা করলেও ৫৯ মিনিটে আর পারেননি। রায়ান মেন্দেসের কাটব্যাক থেকে ডেরয় দুয়ার্তে জোরালো শটে বল জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান।
সমতায় ফেরার পর একের পর এক সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। ৬২ মিনিটে লওতারো মার্টিনেজের পাস থেকে মেসির শট ঠেকিয়ে দেন ভোজিনহা। ৭২ মিনিটে মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিকও কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন তিনি। শেষদিকে মেসি, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার সুযোগ পেলেও গোল করতে ব্যর্থ হন। ফলে নির্ধারিত সময় ১-১ সমতায় শেষ হয়।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেই আবার এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে ম্যাক অ্যালিস্টারের ফ্লিকের পর লিসান্দ্রো মার্টিনেজ বাঁ পায়ের জোরালো শটে জালের ছাদে বল পাঠিয়ে ২-১ করেন। এটি বিশ্বকাপের অতিরিক্ত সময়ে তৃতীয় দ্রুততম গোল।
তবে হার মানেনি কেপ ভার্দে। ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেজ ক্যাবরাল বাম দিক থেকে ভেতরে ঢুকে দূরের কোণায় অসাধারণ বাঁকানো শটে গোল করে আবারও সমতা ফেরান। দর্শনীয় এই গোলটি টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোলের দাবি রাখে।
ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল, তখন ১১১ মিনিটে আসে ভাগ্য নির্ধারণকারী মুহূর্ত। মেসির কর্নার থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেড ডিনে বোর্জেসের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী এই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
শেষ দিকে আরও একবার সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল কেপ ভার্দে। ১১৬ মিনিটে সিডনি ক্যাবরালের শক্তিশালী ফ্রি-কিক দুর্দান্ত দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। সেটিই ছিল ম্যাচের শেষ বড় সুযোগ।
ম্যাচজুড়ে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা ছিলেন দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল পারফরমার। তিনি আটটি সেভ করে আর্জেন্টিনাকে বারবার হতাশ করেন। অন্যদিকে মেসি পাঁচটি শট লক্ষ্যে রাখলেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয় নিশ্চিত হয় প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে। নাটকীয় এই জয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।
Posted ৫:৩৪ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
9 News Bd | s s