নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট
লিওনেল মেসির বিদায়ী ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখল আর্জেন্টিনা। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবার মাঠে নেমে অধিনায়ক নিজে গোল করেছেন, করিয়েছেন আরও একটি। তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়েই জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করলেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা।
বুয়েনস আয়ার্সের এস্টাদিও মনুমেন্টালে ম্যাচটি ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। তবে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে সেই উৎসব রূপ নেয় আবেগে। মেসির বিদায় দেখতে মাঠে উপস্থিত হাজারো সমর্থকের চোখে ছিল অশ্রু। বিউগলের করুণ সুরে ভারী হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়ামের পরিবেশ। রাতের আকাশে লেজার আলোর মাধ্যমে ভেসে ওঠে মেসির ১০ নম্বর জার্সি ও বিদায়ী বার্তা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও অবশ্য গোলের দেখা পায়নি বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। মেসিও কয়েকবার বেনিনের রক্ষণ ভাঙার চেষ্টা করেন। তাঁর দুটি শট লক্ষ্যভেদী হলেও বেনিনের গোলরক্ষক মার্সেল দান্দজিনু দুর্দান্ত দক্ষতায় সেগুলো ঠেকিয়ে দেন।
৪৩ মিনিটে মেসির নিখুঁত থ্রু পাস থেকে গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন জুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু তাঁর শটও আটকে যায় বেনিনের গোলরক্ষকের হাতে। অন্যদিকে বেনিনও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার আর্জেন্টিনার গোলমুখে হানা দেয়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে কয়েক দফা। শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর অবশ্য দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা। ৪৮ মিনিটে মেসির নিখুঁত কর্নার থেকে গোল করেন নিকোলাস ওতামেন্দি। খুব কাছ থেকে ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার। মেসির করা দারুণ ক্রস থেকেই আসে প্রথম গোল।
এরপর ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৬০ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের শটে আবারও গোলের চেষ্টা করেন মেসি। বল এগিয়ে যাচ্ছিল ওপরের ডান কোণ লক্ষ্য করে। কিন্তু বেনিনের গোলরক্ষক দান্দজিনু ফের অসাধারণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।
তবে এক মিনিট পর আর তাঁকে কিছু করার সুযোগ দেননি নিকো পাজ। ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে বল পাঠান নিচের বাঁ কোণে। এই গোলের পেছনেও ছিলেন মেসি। তাঁর বাড়ানো বল থেকেই গোলের সুযোগ তৈরি করে পাজ ব্যবধান ২-০ করেন।
দ্বিতীয় গোলের পর মেসিকে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারিতে ওঠে আবেগের ঢেউ। সমর্থকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে মনুমেন্টাল। তবে ম্যাচে তখনো বাকি ছিল মেসির নিজের গোল।
৬৮ মিনিটে বেনিনের ডিফেন্ডার টামিমু উওরুর ফাউলে আগুস্তিন গিয়াইয়ের পক্ষে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। কিছুক্ষণ চিকিৎসার জন্য খেলা বন্ধ থাকার পর ৭১ মিনিটে স্পটকিক নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন গোলের ওপরের ডান কোণে। গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়ে জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচে স্কোরশিটে নাম লেখান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পরও আক্রমণ থামায়নি আর্জেন্টিনা। মাঠ ছাড়ার আগে মেসিও আরও কয়েকবার গোলের চেষ্টা করেন। ৭৫ মিনিটে নিকোলাস গনসালেসের ক্রস থেকে ডান পায়ের শট নিলেও বল চলে যায় পোস্টের বাইরে। পরে আরও কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন তিনি। ৮৯ মিনিটে জিওভানি লো সেলসোর সহায়তায় নেওয়া মেসির শট বেনিনের গোলরক্ষক স্যাতুর্নিন আলাগবে ঠেকিয়ে দেন।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তেও মেসির পা থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হয়। তাঁর থ্রু পাস থেকে লিওনেল ফ্লোরেস গোলের চেষ্টা করলেও সফল হননি। যোগ করা সময়ে ফ্রি-কিক থেকেও গোলের চেষ্টা করেন মেসি। তবে তাঁর বাঁ পায়ের শট চলে যায় গোলপোস্টের ওপর দিয়ে।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে নিশ্চিত হয়ে যায়—জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচটিও শেষ হলো জয় দিয়ে। বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ ম্যাচের পরিসংখ্যান দাঁড়াল এক গোল ও এক অ্যাসিস্টে।
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা এই তারকার বিদায়ী রাত তাই শুধু একটি ম্যাচের ফলাফলে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ম্যাচ শেষে মনুমেন্টালে নেমে আসে আবেগের ঢেউ। প্রিয় অধিনায়ককে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে দেখার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেক সমর্থক। স্টেডিয়ামের আলো-আঁধারিতে লেজার লাইটে ফুটে ওঠে মেসির ১০ নম্বর জার্সি ও বিদায়ী বার্তা।
একটি যুগের শেষের সাক্ষী হয়ে থাকল বুয়েনস আয়ার্সের এই রাত। মেসি বিদায় নিলেন, তবে বিদায়ের মুহূর্তটিও সাজিয়ে গেলেন তাঁর চেনা ছন্দে—গোল, অ্যাসিস্ট আর আর্জেন্টিনার জয় দিয়ে।
Posted ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬
9 News Bd | s s