নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট

মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাছে বীমা দাবির অর্থ দীর্ঘদিনেও পরিশোধ না হওয়ার অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বগুড়ার বাসিন্দা চুমকি আক্তার। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে চুমকি আক্তার দাবি করেন, তার বাবা মো. জালাল উদ্দীনের বীমা করা ছিল মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সে। বীমা চুক্তিতে নমিনি হিসেবে তার নাম উল্লেখ ছিল। ২০২২ সালে তার বাবার মৃত্যু হলে পারিবারিক শোক কাটিয়ে তিনি বীমার দাবির অর্থ পাওয়ার জন্য মেটলাইফের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তার অভিযোগ, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মেটলাইফের পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয়, বীমা দাবি বাবদ তিনি প্রায় ৪৫ লাখ টাকা পাওয়ার অধিকারী। তবে এ তথ্য দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। একাধিকবার যোগাযোগ করেও তিনি কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাননি বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন।
চুমকি আক্তার বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তিনি বিষয়টির আইনি সমাধানের জন্য হাইকোর্টের একজন আইনজীবীর শরণাপন্ন হন। আইনজীবীর মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার পর মেটলাইফের পক্ষ থেকে নতুন করে জানানো হয়, তিনি ৪৫ লাখ টাকা নয়, মাত্র ৪৪ হাজার টাকা পাবেন। এই সিদ্ধান্তে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং দাবি করেন, পূর্বে জানানো তথ্যের সঙ্গে পরবর্তী অবস্থানের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে আইনজীবীর মাধ্যমে একাধিকবার মেটলাইফ কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে তাগিদ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে ন্যায়সঙ্গত পাওনা আদায়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে চুমকি আক্তার বলেন, একজন নমিনি হিসেবে তিনি চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ পাওয়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু প্রতিবারই নতুন জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার আর্থিক এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা, সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান এবং বিচারপ্রার্থীদের সহায়তায় কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাছে তার দাবি দ্রুত, স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে নিষ্পত্তির অনুরোধ জানান।
বীমা খাতে গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখতে দাবি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার ভাষ্য, বীমা গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কিন্তু বৈধ দাবির অর্থ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে পুরো খাতের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
চুমকি আক্তারের উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে মেটলাইফ ইন্স্যুরেন্সে যোগাযোগ করলে কাস্টমার সার্ভিস বিভাগের ডেপুটি ম্যানেজার মোহাম্মদ আলী জানান, চুমকি আক্তারের বাবার ইন্সুরেন্সে দেওয়া তথ্যে গড়মিল থাকায় ক্লেইম ডিক্লাইন হয়েছে। কী তথ্য গড়মিলের কারণে ভুক্তভোগীর বীমা দাবি বাতিল হয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি এতকিছু ফোনে বলতে পারবেন না বলে জানান।

Posted ১০:৫৫ এএম | রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
9 News Bd | s s


