নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থবছরকে স্বাগত জানিয়েছে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (জেবিসিসিআই)। সংগঠনটি বলেছে, বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যেও সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, রাজস্ব শৃঙ্খলা শক্তিশালী করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক।
সোমবার এক বিবৃতিতে জেবিসিসিআই জানায়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ওপর সরকারের জোর দেওয়ার বিষয়টি প্রশংসনীয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের যে রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, তা দেশের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী মহলের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়ন, শিল্পখাতের বহুমুখীকরণ, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকারের অঙ্গীকার ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সহায়ক হবে।
কর ও শুল্ক প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছে জেবিসিসিআই। মূল্য সংযোজন কর নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়করণ, অনলাইন কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, ইআরপি-ভিত্তিক নথিপত্রের স্বীকৃতি এবং আরও কাঠামোবদ্ধ নিরীক্ষা পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা ব্যবসা পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়াবে বলে মনে করে সংগঠনটি।
এছাড়া শুল্ক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বন্ডেড গুদাম সুবিধার উন্নয়ন, লজিস্টিকস খাতের সংস্কার এবং মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাপানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য দক্ষ বন্দর, দ্রুত কাস্টমস সেবা এবং উন্নত লজিস্টিকস অবকাঠামো বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
জেবিসিসিআই আরও বলেছে, বৈদ্যুতিক যানবাহন, ব্যাটারি প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, উন্নত ইলেকট্রনিকস, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পখাতে বাজেটে প্রদত্ত প্রণোদনা ভবিষ্যতমুখী শিল্পায়নের প্রতি সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এসব উদ্যোগ উচ্চমানের বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও বর্তমান বাজেটকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাপানি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। উৎপাদন, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, লজিস্টিকস ও সেবা খাতে এ চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
তবে ইতিবাচক দিকগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরেছে জেবিসিসিআই। সংগঠনটির মতে, বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। নীতিগত ঘোষণার পাশাপাশি দ্রুত বাস্তবায়ন বিধিমালা জারি, স্পষ্ট নির্দেশনা এবং মাঠপর্যায়ে অভিন্ন প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতির ধারাবাহিকতা, কর কাঠামোর স্থিতিশীলতা এবং নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। ডিজিটাল কর ও শুল্ক ব্যবস্থার সঙ্গে নির্ভরযোগ্য প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং শক্তিশালী ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, পরিবহন ও লজিস্টিকস খাত উন্নয়ন, বন্দর ও বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে সরকার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ বাজেট বাস্তবায়নকে আরও কার্যকর করবে।
জেবিসিসিআইর মতে, বিচক্ষণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, কাঠামোগত সংস্কার এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সমন্বয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ, রপ্তানি ও শিল্পায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। এর ফলে দেশটি এশিয়ার একটি নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

Posted ১২:২৪ পিএম | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s


