নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট

দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হচ্ছে ‘বাংলা কিউআর’। বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে চালু হওয়া এই অভিন্ন কিউআর প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করেই সব ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বাংলা কিউআরের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে দেশের তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরগুলোর প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে দেশে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নিজেদের পৃথক কিউআর কোড ব্যবহার করে ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা দিয়ে থাকে। ফলে একজন ব্যবসায়ীকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কিউআর কোড প্রদর্শন করতে হয়। এতে যেমন পরিচালনাগত জটিলতা তৈরি হয়, তেমনি গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও পেমেন্ট প্রক্রিয়া সবসময় সহজ হয় না।
বাংলা কিউআর চালুর ফলে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। গ্রাহক যে ব্যাংক বা এমএফএস ব্যবহার করুন না কেন, একই কিউআর কোড স্ক্যান করেই মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলা কিউআরের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আন্তঃপরিচালনযোগ্যতা। অর্থাৎ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিতভাবে লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।
এর ফলে ব্যবসায়ীদের আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। একই সঙ্গে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের ওপর নির্ভরতাও কমবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা কম খরচে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেন সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বা ডিজিটাল ওয়ালেট থেকে সম্পন্ন হবে। ফলে মধ্যবর্তী জটিলতা কমবে এবং প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে।
এতে আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, হিসাব সংরক্ষণ সহজ হবে এবং প্রতারণা বা জালিয়াতির ঝুঁকি কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলা কিউআর শুধু একটি পেমেন্ট প্রযুক্তি নয়; এটি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের লেনদেনের তথ্যভান্ডার তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে ঋণ মূল্যায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের সব ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরকে পর্যায়ক্রমে বাংলা কিউআরের আওতায় আনা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, অভিন্ন এই কিউআর প্ল্যাটফর্ম চালুর ফলে দেশে নগদ অর্থের ব্যবহার কমবে, ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।

Posted ২:২৪ পিএম | বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
9 News Bd | s s


